ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোটার লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে গিয়ে ভোগান্তি সৃষ্টি করেছেন। ভোটকেন্দ্রের প্রবেশমুখে জটলা ও লিফলেট বিতরণের কারণে শিক্ষার্থীরা সহজে ভোট দিতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, কার্জন হল, উদয়ন স্কুলসহ অন্যান্য কেন্দ্রের সামনে ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ করছেন। এতে ভোটকেন্দ্রের প্রবেশমুখে ভিড় জমে শিক্ষার্থীরা সহজে প্রবেশ করতে পারছেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো প্রচারণা চালানো যাবে না। এছাড়া ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই সকল ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন।
কার্জন হল এলাকায় ছাত্রদল-সমর্থিত ফজলুল হক মুসলিম হল ইউনিটের নেতাকর্মীরা লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চাইতে দেখা গেছে। সিনেট ভবন কেন্দ্রের সামনেও প্রার্থীরা ভোটারদের কার্ড ও লিফলেট ধরিয়ে দিচ্ছিলেন। পরিস্থিতি দেখে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, “নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী কেন্দ্রের একশ মিটারের মধ্যে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নিয়ম ভঙ্গ করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডাকসুর মানবসেবা সম্পাদক এ বি জোবায়ের অভিযোগ করেন, “ছাত্রদল কৃত্রিম জটলা তৈরি করে ডাকসুর ফুল প্যানেলের লিস্ট ধরিয়ে দিচ্ছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ায় আমি প্রতিবাদ করতে গেলে তারা বাগবিতণ্ডায় জড়ায়।”
পর্যবেক্ষক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফাও শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের সামনের পরিস্থিতি দেখে প্রতিবাদ জানান। জহুরুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ফারুক শাহ গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা প্রার্থীদের সরিয়ে দিচ্ছি। জহুরুল হক হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলকে আলাদা করা হয়েছে। আর এমন জটলা হবে না।”
ভোটের দিনও ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে, যেটি কয়েক মাস ধরে চলা প্রচারণার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন