জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে বাগছাস সমর্থিত শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়ামের বিরুদ্ধে।
রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের গেস্টরুমে সিয়াম প্রায় ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে বৈঠক করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন হলের একাধিক শিক্ষার্থী।
তাদের অভিযোগ, জিএস প্রার্থী সিয়াম গেস্টরুমের দরজা বন্ধ করে ভোট চাওয়া ও নির্বাচনী প্রচারণা চালান। অথচ নির্বাচনী আচরণবিধির ৭(খ) ধারায় বলা হয়েছে— নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া ২৫ জনের বেশি শিক্ষার্থীর সমাবেশ করা যাবে না।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তারক্ষী জানান, “গতকাল রাতে গেস্টরুমে কিছু শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে মিটিং করছিল। পরে বাইরে বের হয়ে হট্টগোলের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।”
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে প্রায়ই হলে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা তাদের পড়াশোনার বিঘ্ন ঘটায়। কারণ নির্বাচনের দুই দিন পর থেকেই কিছু বিভাগের পরীক্ষা শুরু হবে।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তুহিন মিয়া বলেন, “গতকাল রাতে আমরা দেখেছি সিয়াম ভাই গেস্টরুমে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে মিটিং করেছেন। এতে এলাকায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে তারা রাস্তায়ও ভিড় করেন। যদি এটি আচরণবিধি বিরোধী হয়, তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “সিয়াম ভাই আমাদের ডিপার্টমেন্টের সবাইকে ডাকেন। আমরা নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছি, এটিকে ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, “কাজী নজরুল ইসলাম হলে আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রোগ্রাম করিনি। প্রচারণা চালাতে গেলে কিছু শিক্ষার্থী গেস্টরুমে ডাকেন। আমি সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক একে এম রাশিদুল আলম বলেন, “আমরা নিয়মিত তদারকি করি। কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেই। তবে আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইএই
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন