অধ্যাদেশের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

মোকার্রেমা খাতুন, ইডেন কলেজ  প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০২৫, ০৯:২২ পিএম
অধ্যাদেশের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

সাত সরকারি কলেজকে নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের অধ্যাদেশের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বাস পেয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ আশ্বাসের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যার পর তারা আজকের মতো অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সচিবালয় থেকে বের হয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী তানজীমুল আবিদ জানান, তারা শিক্ষা উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সচিবের সঙ্গে দেখা করেছেন। 

সেখানে জানানো হয়, অধ্যাদেশের কাজ বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে, যা সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ই-মেইল যাচাইয়ের কাজ চলছে, যা সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “অধ্যাদেশের এই ধাপ শেষ হলে পরবর্তী ধাপগুলো—কেবিনেটে উপস্থাপন ও রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর—খুব অল্প সময়েই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”

শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জানান, চলমান আন্দোলনে তাদের কয়েকজন সহপাঠী আহত হয়েছেন। একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের হাতে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দুইজন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারান, যাদের মধ্যে একজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাত কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষাবিদসহ প্রায় দেড় লাখ অংশীজনের মতামত নেওয়ার কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।

অধ্যাদেশের অগ্রগতি সম্পর্কে আশাবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, “মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে আপাতত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে জানানো হবে।”

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৬ মার্চ সরকার রাজধানীর সাত সরকারি কলেজ—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাংলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ—পৃথক করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ঘোষণা দেয়।

এর আগে সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে অন্য কলেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিলে সচিবালয় অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ব্যারিকেড ও জলকামান মোতায়েন করে।

ইএইচ