জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মশাররফ হোসেন হলের নবীন শিক্ষার্থীদের আড়ম্বরপূর্ণভাবে নবীনবরণ দিয়েছে সদ্য অভিষেক হওয়া মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদ।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় মীর মশাররফ হোসেন হলের কমনরুমে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়।
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. মাহফুজুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব এবং এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাকসুর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য হল সংসদের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্য নির্বাচিত হল সংসদ নেতৃবৃন্দকে হলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়। দ্বিতীয় অংশে নবীন শিক্ষার্থীদেরকে উপহার প্রদানসহ বরণ করা হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।
নবীন শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, “আজ হল সংসদ, আমাদের বড় ভাইগুলো আমাদের যেভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে বরণ করেছেন, তাতে আমরা খুবই সম্মানিত হয়েছি। পুরো অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছি। আমাদের শিক্ষকরা এবং বড় ভাইগুলো গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যা আমরা মেনে চলব।”
হল সংসদের জিএস শাহরিয়া নাজিম রিয়াদ বলেন, “আমাদের হলে নবীন শিক্ষার্থীরা এসেছে। তাদেরকে এখানে মানিয়ে নিতে সাহায্য করার দায়িত্ব আমাদের। জুলাই পরবর্তী সময়ে যে রাজনৈতিক ফ্যাসীবাদমুক্ত ক্যাম্পাস আমরা পেয়েছি, তার সুফলভোগী আমাদের নবীন শিক্ষার্থীরা। তারা আসার পরপরই তাদের সিঙ্গেল সিটের ব্যবস্থা করেছি। আশা করি একটি সুন্দর পরিবেশ পেয়ে তারা তাদের একাডেমিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারবে।”
হল সংসদের ভিপি খালেদ জোবায়ের শাবাব বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আগে যে রাজনৈতিক আধিপত্যবাদ কায়েম ছিল, কৃত্রিম রুম সংকট তৈরী করে শিক্ষার্থীদের সিট না দিয়ে, গণরুম-গেস্টরুম কালচারের নামে শিক্ষার্থীদের দমন-পীড়ন করা হতো। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা সেই সিলসিলা ভেঙে দিয়েছি। তার অংশ হিসেবেই আমরা শিক্ষার্থীদের সিঙ্গেল সিটের ব্যবস্থা করেছি এবং আজ জাকজমকপূর্ণভাবে নবীনবরণের ব্যবস্থা করেছি। আশা করি শিক্ষার্থীরা শুরুতে যেমন উপযুক্ত পরিবেশ পেয়েছে, তেমনি তাদের মেধা ও মননের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে।”
হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, “নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণা আমাদের হলকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত করেছে। আমরা গণরুম প্রথা বিলুপ্ত করে শুরুতেই তাদেরকে নিজস্ব রুম দিয়ে একটি উপযুক্ত আবাসিক এবং একাডেমিক পরিবেশ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীতে তাদের মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দিয়ে দেশের উত্তোরোত্তর সাফল্যে ভূমিকা রাখবে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন