রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসউদ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের মধ্যে উত্তপ্ত তর্ক–বিতর্কের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার দুপুরে রেজিস্ট্রার দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ করে আম্মার বলেন, “আমি স্যার ভিতরে আসব না?” জবাবে রেজিস্ট্রার বলেন, “তোমাকে আমি বাইরে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেছি।”
এ সময় আম্মার অভিযোগ করেন, “আপনি স্যার ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সভাপতির অপসারণের চিঠি আটকে রেখেছেন।” উত্তরে রেজিস্ট্রার ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “এই বেয়াদব ছেলে! কীসের চিঠি আটকিয়ে রেখেছি আমি?” তখন আম্মার বলেন, “বেয়াদব তো আমি, অবশ্যই বেয়াদব।”
রেজিস্ট্রার তখন বলেন, “আমার সঙ্গে বেয়াদবি কেন? তুমি কে ওই বিভাগের?” জবাবে আম্মার বলেন, “আমি রাকসুর নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।”
এ সময় রেজিস্ট্রারের কক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী। তখন রেজিস্ট্রার বলেন, “তোমাদের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রতিদিনের জন্য আমাকে জবাবদিহি করতে হবে নাকি?”
পাশে থাকা ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডলকে দেখিয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, “ডিন স্যার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন, তুমি কেন ভেতরে ঢুকলে?” জবাবে আম্মার বলেন, “আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি, আমি কেন ঢুকতে পারব না?” এক পর্যায়ে রেজিস্ট্রার তাকে “গেট আউট” বলেন। আম্মার প্রতিক্রিয়া জানান, “কেন গেট আউট?”
এরপর রেজিস্ট্রার বলেন, “তুমি সব সময় মিথ্যাচার করো। এখানে বিএনপির কেউ নেই, এরা এনসিপির নেতাকর্মী।” তখন আম্মার বলেন, “আপনার সচিবই বলেছেন, আপনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।” রেজিস্ট্রার জবাবে বলেন, “এই নেতারা ১৫ দিন আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছেন। তোমাকে বসে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম।”
ঘটনার পর নিজের ফেসবুক পেজে আম্মার লেখেন, “ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণের আন্দোলন চলছে প্রায় ২৩ দিন। ভিসি স্যারকে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের অনুরোধ করেছিলাম। বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান অপসারণের কাগজে স্বাক্ষর হয়, কিন্তু রেজিস্ট্রার দফতরে তা আটকে রাখা হয়।”
তিনি আরও লেখেন, “রেজিস্ট্রার স্যারকে জানানো হলে বলা হয়, তিনি নাকি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রোগ্রামে আছেন। পরে আমি নিজেই ঢুকে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং চড়াও হন। ঘটনার কিছু অংশ ভিডিওতে ধারণ করা হয়।”
আম্মারের অভিযোগ, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক ও সিনেট সদস্য। এভাবে আমার পদ মর্যাদাকে অসম্মান করা হয়েছে।”
অন্যদিকে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসউদ বলেন, “আমার দফতরে সবাই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আসেন। এনসিপির নেতারা এক সপ্তাহ আগে সাক্ষাতের সময় নিয়েছিলেন। তখন কয়েকজন শিক্ষকও ছিলেন। ঠিক তখনই আম্মার অনুমতি ছাড়াই ঢুকে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “সে মিথ্যাচার করে বলেছে, আমি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলাম। এটা তার স্বভাবসুলভ আচরণ।”
এ বিষয়ে এনসিপির রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক মোবাস্বের রাজ বলেন, “আমরা সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়েছিলাম। বিএনপির কেউ সেখানে ছিল না। ভুল বোঝাবুঝির কারণেই বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।”
উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এনামুল হককে অপসারণ করে তাকে সাইকোলজি বিভাগে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সহকারী অধ্যাপক তারুণ হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন