জাকসুর উদ্যোগে প্রাণ ফিরে পেল জাবির পরিত্যক্ত লেক

জাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২৫, ০৪:০৫ পিএম
জাকসুর উদ্যোগে প্রাণ ফিরে পেল জাবির পরিত্যক্ত লেক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের অন্যতম উপকরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলো। শাপলা, পদ্মশোভিত লেকগুলো অতিথি পাখির জলকেলিতে মুখরিত থাকে শীতকালজুড়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে প্রশাসনের অবহেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল বড় বড় লেকগুলো। 

পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা লেক নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে জাকসুর উদ্যোগে এবং পরিণত হয়েছে অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমের মনপুরা লেকটি সম্প্রতি পরিষ্কার করা হয়েছে জাকসুর পরিবেশ ও প্রকৃতি বিষয়ক সম্পাদকের উদ্যোগে। ফলে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থার অবসান ঘটেছে। একইসাথে শীতে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে লেকটি।

জাকসুর প্রকৃতি ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাফায়েত মীর বলেন, বিগত বেশ কয়েক বছর যাবৎ মনপুরা সংলগ্ন লেকটি কচুরিপানা এবং নানা ধরনের আগাছায় অপরিষ্কার ছিল। পরিযায়ী পাখি আসার অনুপযুক্ত ছিল। পাখি আসলেও অবস্থান করার মতো দৃশ্যমান পানি এবং পরিবেশ না থাকায় চলে যেত। এবছর পাখি আসার পূর্বেই লেকটি পরিষ্কার করা হয় যেখানে স্বচ্ছ পানি দৃশ্যমান। ইতোমধ্যে পরিযায়ী পাখি চলে এসেছে এবং সংখ্যা বাড়ছে।

জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, জাকসুর অন্যতম লক্ষ্য ছিল ক্যাম্পাসের পরিত্যক্ত লেকগুলোর সংস্কার করে অতিথি পাখির নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত করা। তারই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আমরা মনপুরা লেক সংস্কার করেছি যেখানে প্রচুর অতিথি পাখির আনাগোনা আমরা দেখতে পাচ্ছি ইতোমধ্যেই। অন্যান্য লেকগুলোও আমরা প্রয়োজনবোধে ধীরে ধীরে সংস্কার করবো। তবে সংস্কার করা মনপুরা লেকের পাশেই শিক্ষার্থীরা ও বহিরাগতরা নিয়মিত বিভিন্ন পিকনিকের আয়োজন করে থাকে এবং নিয়মিত শব্দ ও প্লাস্টিক দূষণ করে থাকে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রশাসনকে এ সকল বিষয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একইসাথে ক্যাম্পাসে যত্রতত্র অননুমোদিতভাবে উচ্চশব্দে বিভিন্ন প্রোগ্রাম, কনসার্ট হয় যেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তাহলেই আমরা জাহাঙ্গীরনগর-কে জীববৈচিত্রের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত করতে পারবো।

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী গবেষক আশীষ কুমার দত্ত বলেন, লেকগুলো পরিষ্কার করার ফলে অতিথি পাখির সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। অতিথি পাখির অভয়ারণ্য রক্ষায় এটা জাকসুর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু পাখির সংখ্যা বাড়লেও পাখির বৈচিত্র্য হ্রাস পেয়েছে দিনে দিনে এবং সেটা এখনো চলমান আছে। পাখির উপযুক্ত আবাসনের জন্য নির্দিষ্ট অনুপাতে সঠিকভাবে ঝোপঝাড় থাকা প্রয়োজন। তাই নির্বিচারে ঝোপঝাড় নিধন করে লেক পরিষ্কার করলে বৈচিত্র্য বাড়ানো সম্ভব নয়। পাখির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করতে হলে লেকগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে খনন ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন। শীতে, বিশেষ করে অতিথি পাখির আগমনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সংগঠনের প্রোগ্রামের সংখ্যা বেড়ে যায়, যার অনিয়ন্ত্রিত উচ্চশব্দ ক্যাম্পাসে বন্যপ্রাণী বিশেষ করে অতিথি পাখির নিরাপদ পরিবেশ রক্ষায় একটি বড় হুমকি। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে যে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঘটছে সেটাও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন, তাহলেই অতিথি পাখির নিরাপদ অভয়ারণ্য রক্ষাসহ প্রাণীবৈচিত্র্য বৃদ্ধি করা সম্ভব।

ইএইচ