বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের দেওয়া নিকাববিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রী সংস্থা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা।
মঙ্গলবারবিকেল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন সংগঠনটির কর্মী ও সমর্থকরা। এ সময় তারা মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধনে জাকসুর কার্যকরী সদস্য ফাবলিহা জাহান তার বক্তব্যে বলেন, "আমাদের নৈতিক দায়িত্ব যে যারা বাংলাদেশে এবং বিশেষত ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে যেখানে আমরা ফ্যাসিবাদের কোনো ঠাঁই দেখতে চাই না, সেখানে হিজাব ফোবিয়াও চাই না। গতকাল তথাকথিত এক বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর তার একটি সেমিনারে বক্তব্য দিয়েছেন যে, মুসলিম নারীদের নিকাব যা আমাদের সম্ভ্রম ও আত্মপরিচয়ের একটা উৎস সেই আত্মপরিচয়ের উৎসকে তিনি খুবই নোংরা ভাষায় সংজ্ঞায়িত করেছেন। তিনি বাংলাদেশের মুসলিম নারী সমাজকে ইহুদিদের বেশভূষার সাথে তুলনা করেছেন। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই।"
তিনি আরও বলেন, "বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে খুনি হাসিনার আমলে আমরা দেখেছি যে কীভাবে হিজাব পরিহিত নারীদের পরীক্ষার হলে, অফিসে এবং চাকরির ভাইভায় হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। অত্যন্ত লজ্জার সাথে বলছি যে, এটি এখনো চলমান রয়েছে।"
মানববন্ধনে বেগম রোকেয়া হল সংসদের এজিএস ফাহমিদা সুলতানা সওদা বলেন, "৯০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার দেশে যদি হিজাব নিয়ে এরকম ন্যাক্কারজনক কথা শুনতে হয়, তবে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছুই হতে পারে না। আমরা পোশাকের স্বাধীনতার কথা বলি; যারা হিজাব বা নিকাব পরে না, তাদের পোশাক নিয়ে কেউ কথা বললে পুরো বাংলাদেশ প্রতিবাদে সরব হয়। কিন্তু আমরা যারা হিজাব-নিকাব পরি, তাদের পোশাক নিয়ে কটূক্তি করলে সেরকম কোনো প্রতিবাদ দেখা যায় না। আমরা দেখেছি ভাইভা বোর্ডে এমনও বলা হয়েছে যে, নিকাব না খুললে ভাইভায় ফেল করিয়ে দেওয়া হবে। ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা এগুলো কখনোই মেনে নিতে পারি না। আমরা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।"
সমাপনী বক্তব্যে ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস তিনটি দাবির কথা উত্থাপন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাকে আগামীতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থেকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। সেই সাথে এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করার দাবি জানান এবং নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় বক্তারা আততায়ীর গুলিতে নিহত শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবি করেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন