ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় এসআই কামরুজ্জামান

বিজয় সরকার, মাভাবিপ্রবি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় এসআই কামরুজ্জামান

সম্প্রতি বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিং প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যালপার ডগার (এডি) সায়েন্টিফিক ইনডেক্স ২০২৬ সালের বিশ্বসেরা গবেষকদের নিয়ে তাদের বার্ষিক তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে টানা ষষ্ঠবারের মতো স্থান পেয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ পুলিশের উপপরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান। 

বর্তমানে তিনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা মেট্রোতে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার সদর উপজেলায়।

এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্সের এবারের তালিকায় বিশ্বের ২২১টি দেশের ২৪ হাজার ৬৭২টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ জন গবেষক ও বিজ্ঞানী স্থান পেয়েছেন। 

এর মধ্যে বাংলাদেশের ২২২টি সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৯ হাজার ৩৭৫ জন গবেষকের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যেই একজন মাভাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী এসআই মো. কামরুজ্জামান। 

প্রকাশিত তালিকায় মাভাবিপ্রবির ২০৭ জন গবেষকের মধ্যে তিনি ৮ম স্থানে এবং বাংলাদেশের সম্মিলিত র‍্যাঙ্কিংয়ে ১,০৫৫তম অবস্থানে রয়েছেন।

পাশাপাশি ‘ল অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ’ ক্যাটাগরির আওতায় ক্রিমিনোলজি, ভিকটিমোলজি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রথম এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

পুলিশ পেশার পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম কীভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. কামরুজ্জামান বলেন, ২০১৯ সালে পুলিশের উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করি। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্ল্যানিং অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগে পদায়নের সুযোগ পাওয়ায় গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

গবেষণার মাধ্যমে অপরাধ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি ও সমাজকে অপরাধমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠি ও সহকর্মীরা আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় স্থান পাওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দের। ভবিষ্যতেও দেশের অপরাধের ধরন ও কারণ অনুসন্ধান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকীকরণে গবেষণা চালিয়ে যেতে চাই।

উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্সে প্রকাশিত বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় স্থান পেয়ে আসছেন মো. কামরুজ্জামান। ২০২১ সালের পর থেকে প্রতি বছরই তিনি মাভাবিপ্রবির গবেষকদের মধ্যে সেরা দশে অবস্থান ধরে রেখেছেন। 

২০২৫ সালের তালিকাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষণার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কাজেও সক্রিয় এ পুলিশ কর্মকর্তা। ২০১০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার’।

পাঠাগারটি গ্রামভিত্তিক পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চা বিস্তার এবং সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে অণু পাঠাগার স্থাপনসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। 

এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স বিশ্বব্যাপী গবেষকদের গত পাঁচ বছরের গবেষণা কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে এইচ ইনডেক্স, আই টেন ইনডেক্স ও সাইটেশন স্কোরের ভিত্তিতে তালিকা প্রকাশ করে। কৃষি ও বনায়ন, কলা, ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, আইন, চিকিৎসা, প্রকৃতিবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞানসহ মোট ১২টি বিষয়ভিত্তিক ক্যাটাগরিতে প্রতি বছর এ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশিত হয়।

ইএইচ