সরস্বতী পূজায় ৩৯ মণ্ডপে প্রস্তুত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
সরস্বতী পূজায় ৩৯ মণ্ডপে প্রস্তুত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শ্রীপঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতীর পূজা করা হয়। এ উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সরস্বতী পূজার প্রস্তুতি নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পূজা উদ্যাপনের সব আয়োজন প্রায় শেষের দিকে।

আগামীকাল (২৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ, ২টি ইনস্টিটিউট এবং একমাত্র ছাত্রীহল সহ মোট ৩৯টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, মণ্ডপ নির্মাণ ও সাজসজ্জায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। 

বিজ্ঞান অনুষদসংলগ্ন মাঠ, কলা ভবনের সামনে, শান্ত চত্বর, শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলা, রফিক ভবনের পাশের এলাকা এবং সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে বিভিন্ন বিভাগের পূজামণ্ডপ বসানো হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজেও পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

নানান আলপনা ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় উৎসবের রঙ লেগেছে পুরো ক্যাম্পাসে। কাঠ, খড় ও ককশিট দিয়ে তৈরি করা ভিন্ন ভিন্ন ফ্রেম, ব্যানার, স্টেজ ও সজ্জায় প্রতিটি মণ্ডপই আলাদা রূপে ফুটে উঠেছে। শেষ মুহূর্তে এসে পূজার আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষার্থীরা।

মণ্ডপে কাজ করতে দেখা যায় একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দেবজ্যোতি বিশ্বাসকে। তিনি বলেন, 'প্রতিবছরের মতো এবারও বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া বাজেটেই মণ্ডপ তৈরির কাজ করছি। চেষ্টা করছি অন্যদের থেকে একটু ভিন্নভাবে সাজাতে।'

জকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. তাকরিম মিয়া বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়, এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এ উৎসব ক্যাম্পাসে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। আমরা চাই, সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হোক।'

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, 'এ বছর ৩৬টি বিভাগ, ২টি ইনস্টিটিউট এবং একমাত্র ছাত্রীহল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরীরাণী হলের মণ্ডপে সরস্বতী পূজা উদ্যাপন করা হবে। ইসলামিক স্টাডিজ এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে পূজা হচ্ছে না। তাদের কাছ থেকে কোনো আবেদন পাইনি। আহ্বান জানানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।'

এদিকে স্বল্প বাজেটে মণ্ডপ সাজাতে গিয়ে চাপে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, গত বছর প্রতি মণ্ডপে ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও এ বছর তা বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। আগে যেখানে পূজার বাজেট ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছিল, সেখানে বর্তমান বরাদ্দে খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে অনেক বিভাগেই সহপাঠীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী উপমা মণ্ডল বলেন, 'প্রতিবছরই আনন্দের সঙ্গে পূজা উদ্যাপন করি। তবে গত দুই বছর ধরে স্বল্প বাজেটে সব আয়োজন করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে সহপাঠীদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করতে হয়েছে।'

বাজেট বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, 'আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। তবে সার্বিক বাজেট ও ফান্ডের সামর্থ্য অনুযায়ী যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে, সেটি দিয়েই শিক্ষার্থীরা পূজার আয়োজন করছে।'

পূজার সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, 'বরাবরের মতো এবারও সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সঙ্গে সরস্বতী পূজা পালিত হবে। পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি সার্বক্ষণিক তদারকি করবে। ক্যাম্পাসের ভেতর ও বাইরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।' বাইরের দর্শনার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। বহুবছর ধরে পালিত হয়ে আসা এ উৎসব সবাই শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন করবে বলে আমরা আশাবাদী।'

বাজেট বণ্টন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে অনুষ্ঠানসংক্রান্ত একটি খাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকে। আগে এ অর্থ নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হতো। এখন আমরা সেই বাজেট সমানুপাতে বণ্টন করছি।'

ইএইচ