বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে এই রায়কে ‘প্রত্যাশিত নয়’ উল্লেখ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবার ও সহযোদ্ধারা। তাঁদের দাবি, অনেক অপরাধী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে এবং মূল হোতাদের লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
আবু সাঈদের বাবা ও মা জানান, যে কজনের শাস্তি হয়েছে তাতে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। আরও বেশি আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত ছিল বলে তাঁরা মনে করেন।
সাঈদের বোন সুমি খাতুন বলেন, আমরা এই রায়ের জন্য প্রতীক্ষায় ছিলাম। কিন্তু যতটুকু শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। বিশেষ করে শিক্ষকদের আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।
শহীদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, এই রায়ে ‘গুরুদণ্ডে লঘু শাস্তি’ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, পুলিশের আরও সদস্য এবং ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতারা এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকলেও তাঁদের শাস্তির বিষয়টি সেভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তাঁরা এই রায় পুনর্বিবেচনা করার জন্য আদালতের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
তবে বেরোবি উপাচার্য ড. শওকাত আলী বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, এই মামলায় ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৪ জনই পলাতক রয়েছেন এবং ৬ জন কারাগারে আছেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন এএসআই আমির হোসেন, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। দণ্ডপ্রাপ্তদের শাস্তি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন