রুয়েটে চালু হচ্ছে ইউনিক কোডিং পদ্ধতি, উত্তরপত্র মূল্যায়নে আসবে স্বচ্ছতা

রুয়েট প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
রুয়েটে চালু হচ্ছে ইউনিক কোডিং পদ্ধতি, উত্তরপত্র মূল্যায়নে আসবে স্বচ্ছতা

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ইউনিক কোডিং পদ্ধতি’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ২ মে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই পদ্ধতির ফলে পরীক্ষার্থীর নাম-পরিচয় গোপন রেখে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে, যা একাডেমিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করবে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (২৫ সিরিজ) তিনটি বিভাগে এই পদ্ধতি চালু করা হবে। বিভাগগুলো হলো- কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট (বিইসিএম) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং। প্রাথমিক এই পর্যায় সফল হলে এবং ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেলে পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ ও বর্ষে এই সিস্টেম সম্প্রসারণ করা হবে।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ১২ দফা দাবির মধ্যে এই কোডিং পদ্ধতি চালুর বিষয়টি অন্যতম ছিল। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। এরপর ২৬ জুলাই রুয়েট কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে দ্রুত এই সিস্টেম চালুর জোর দাবি জানান।

১২ দফা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক শিক্ষার্থী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, শিক্ষকদের বিরাগভাজন হয়ে একাডেমিক রেজাল্ট খারাপ হওয়া এবং এর ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার ঘটনা রুয়েটে অহরহ ঘটেছে। এই পদ্ধতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীরা এ ধরনের সংকট থেকে মুক্তি পাবে।

অন্যদিকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন নাহিদ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস অনেকবার দেওয়া হলেও এবার তাঁরা কালবিলম্ব না করে এর দ্রুত ও দৃশ্যমান ফলাফল দেখতে চান।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে আসায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি রুয়েটের একাডেমিক ব্যবস্থার সংস্কার ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। 

জেএইচআর