প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষককে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেবে সরকার

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষককে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেবে সরকার

দেশের প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং শিক্ষকদের আধুনিক ও দক্ষ করে তুলতে আন্তর্জাতিক অনুদান পেয়েছে বাংলাদেশ। গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের (জিপিই) কাছ থেকে প্রায় ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা) অনুদান পাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে।

আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) ইউনিসেফ বাংলাদেশ জানিয়েছে, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও কাঠামোগত রূপান্তরের লক্ষ্যে এই বিশাল অনুদানকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রথম অংশে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোর কারিগরি সহায়তায় ৪৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের ‘সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট’ ব্যবহার করা হবে। এর আওতায় দেশের প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৭৭ হাজার শিক্ষককে আধুনিক ও মানসম্মত পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় অংশে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মাধ্যমে ৫০ মিলিয়ন ডলারের ‘মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এর মূল লক্ষ্য দেশের প্রায় ৭ লাখ শিক্ষককে প্রযুক্তিনির্ভর এবং আধুনিক মিশ্র শিক্ষাদান (ব্লেন্ডেড লার্নিং) পদ্ধতিতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করে তোলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলন বলেন, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের (জিপিই) আওতায় ইউনেস্কো ও ইউনিসেফের হাত ধরে বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে আমরা ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পাচ্ছি, যা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এই বিশাল অর্থায়ন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তরে সরাসরি অনন্য ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষে বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ইমানুয়েল আব্রিউসহ ইউনেস্কো, জিপিই এবং এডিবির শীর্ষ প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের এই রূপান্তরকে স্বাগত জানিয়ে আগামী দিনের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষা কাঠামো গঠনে এই অনুদানকে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।

জেএইচআর