বদলে যাচ্ছে পাঠ্যবই

শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে সিলেবাসে যুক্ত হচ্ছে নতুন বই

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১১:২৬ এএম
শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে সিলেবাসে যুক্ত হচ্ছে নতুন বই

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) আগামী শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় মোট ১৩৩টি পাঠ্যবই পরিমার্জন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত করার কাজও চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বইগুলোর বিষয়বস্তু ও কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে।

পাঠ্যবই পরিমার্জনের অংশ হিসেবে ইতিহাস, বাংলা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে নতুন তথ্য সংযোজন, কিছু অধ্যায়ের পুনর্বিন্যাস এবং সময়োপযোগী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিটি বইয়ে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে আলাদা অধ্যায় যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করতে পারে।

এ ছাড়া নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা একটি প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ অধ্যায়ে বর্তমানে থাকা চার নেতার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন ও অবদানও সংযোজন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের ৩৬টি পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জনের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরের মোট ৯৯টি বইয়ের মধ্যে ৯৭টির পরিমার্জন সম্পন্ন হয়েছে। এসব বই প্রস্তুতের কাজে প্রাথমিক স্তরে ১৬০ জন এবং মাধ্যমিক স্তরে ২৫০ জন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী কাজ করেছেন।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩০ কোটি ৮৩ লাখের বেশি পাঠ্যবই মুদ্রণের পরিকল্পনা করেছে এনসিটিবি। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হবে ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি বই। আর মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য মুদ্রণ করা হবে ২১ কোটি ২৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৩২ কপি বই। আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ছাপার কাজ শুরু করে নভেম্বরের মাঝামাঝি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, এখন পর্যন্ত ১৩৩টি পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জন ও ইনডিজাইনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া চারটি বইয়ের বিষয়বস্তু ও কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, চার শতাধিক বিষয়বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সম্পাদক ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ পাঠ্যবই প্রস্তুতের কাজে অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি বই একাধিক ধাপে পর্যালোচনা করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্ভুল, মানসম্মত ও যুগোপযোগী পাঠ্যবই পায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

এএন