দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস। প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই চলছে সরব প্রচারণা।
নির্বাচনি কাজে সময় দিতে টিউশন থেকে ছুটি নিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত ভিপি ও জিএস প্রার্থীরা।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবন অনুষদ এলাকায় দেখা যায় ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী মো. শেখ সাদী হাসান ও জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।
ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি তিনটি টিউশনি করান। এদের মধ্যে দুইজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তবে নির্বাচনি প্রচারণার জন্য ১২ দিনের ছুটি নিয়েছেন।
বলেন, “আমি পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশন করেই খরচ চালাই। কিন্তু জাকসু নির্বাচনের কারণে এখন পুরো সময় ক্যাম্পাসেই দিতে হচ্ছে। অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে তারা বলেছেন, কোনো সমস্যা নেই, নির্বাচন শেষে আবার পড়ানো শুরু করবেন।”
তিনি আরও বলেন, "নির্বাচন ১১ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে। আমি ১২ বা ১৩ সেপ্টেম্বর থেকেই আবার টিউশনি করাতে চলে যাবো।"
তার মতে, আমি মানুষটি যেমন তা জেনেই শিক্ষার্থীরা তাকে ভোট দিক এবং ভবিষ্যতেও নিজের স্বচ্ছতার ব্যাপারে স্পষ্ট থাকতে চান।
একই সুরে কথা বলেছেন ছাত্রদল মনোনীত জিএস প্রার্থী তানজিলা হোসেন বৈশাখী। তার কথায়, তিনি রাজধানী ও ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকায় টিউশনি করান এবং একটি কোচিংয়েও দীর্ঘদিন ধরে পড়ান। তবে নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশ নিতে কোচিং থেকে ছুটির পাশাপাশি টিউশনি থেকেও আপাতত ছুটি নিয়েছেন।
তানজিলা বলেন, “আমি মূলত ক্যাডেট কলেজ ভর্তি প্রস্তুতি ও অষ্টম-নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াই। মিরপুর ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দু’জন শিক্ষার্থীকে পড়াই। অভিভাবকরা আমাকে নির্বাচনি কাজে পুরোপুরি সহযোগিতা করছেন এবং সময় নিতে বলেছেন। তারা বলেছেন, যে কয়দিন সময় লাগে সে কয়দিন সময় নিতে। এটা নিয়ে টেনশন না করতে।”
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পরপরই প্রার্থীরা তাদের আগের কাজে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন