আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের গণবিজ্ঞপ্তি এই সপ্তাহেই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।
ইসি সচিব বলেন, নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। কমিশন চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। আমরা আশা করছি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তা করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, নতুন নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হলে কমিশন আগ্রহী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে প্রয়োজনীয় নথি ও সদস্যপদের প্রমাণপত্র জমা দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করবে।
দুই মাসের ব্যবধানে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশে মোট ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন ভোটার রয়েছেন। গত দুই মাসে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ জন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ১৮ নভেম্বর প্রকাশ করা হবে এবং এ তালিকাই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত হবে বলে জানান ইসি সচিব।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও কমিশন কাজ করছে বলে জানান তিনি।
১৬ নভেম্বর আমরা একটি অ্যাপ চালু করছি, যাতে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকরা অনলাইনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারেন বলে জানান আখতার আহমেদ।
এরই মধ্যে বিশ্বের ১১টি দূতাবাসে ২১টি নিবন্ধন স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় নতুন প্রতীক ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ইসি সচিব।
তার ভাষায়, প্রতীকের তালিকা নির্বাচন কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হালনাগাদ করা হয়েছে। কোনো দল তা নেবে কি নেবে না এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।
এদিকে, বেশ কয়েকটি নতুন দল ইতোমধ্যেই নিবন্ধনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা সম্প্রতি ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে আবেদন জমা দিয়েছে।
ইসি সচিব জানান, আগামী নির্বাচন হবে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর। এজন্য মাঠপর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, কমিশনের উদ্দেশ্য একটাই যেন সব রাজনৈতিক দল ও ভোটার আস্থা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। এজন্য আমরা সব প্রস্তুতি নিচ্ছি।
নির্বাচন কমিশন প্রতি সাধারণ নির্বাচনের আগে নতুন দল নিবন্ধনের সুযোগ উন্মুক্ত করে। নিবন্ধনপ্রাপ্ত দলগুলোই নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীকে প্রার্থী দিতে পারে। গতবারের (২০২৩) নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ৪৪টি দল আবেদন করলেও অনুমোদন পেয়েছিল মাত্র ২টি।
এবারের প্রক্রিয়ায় কমিশন স্বচ্ছ যাচাই বাছাই ও সদস্যপদ যাচাইয়ে ডিজিটাল যাচাই পদ্ধতি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন দল নিবন্ধন প্রক্রিয়া রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ইসি সচিবের ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে কে বা কারা নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে, এবং নতুন কোনো জোটের জন্ম হতে পারে কিনা তা জানতে এখন সবার অপেক্ষা সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন