আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে প্রভাবমুক্ত এবং সুষ্ঠু রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার কমিশনের এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, ঘোষণা কিংবা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা যাবে না।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর থেকে সরকারি সুবিধাভোগী কোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সমপদমর্যাদার ব্যক্তিগণ) কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুদান ঘোষণা বা বরাদ্দ প্রদান করতে পারবেন না। এমনকি সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো সুযোগ-সুবিধাও নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।
কোনো নতুন প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ফলক উন্মোচন করা যাবে না।
সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অফিস, গাড়ি, ফোন বা ওয়াকিটকি কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনি কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। এমনকি মাশুল প্রদান করেও এই সুবিধা নেওয়া যাবে না।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত করা যাবে না।
নির্বাচনি কার্যক্রম চলাকালীন কোনো বিশেষ এলাকায় অনুদান বা ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। তবে পূর্ব-অনুমোদিত অতি জরুরি প্রকল্পের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে অর্থ অবমুক্ত করা যাবে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রার্থী এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তবে তাকে আচরণ বিধিমালার ২৭ নম্বর বিধির আওতায় শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। উল্লেখ্য, এই বিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল করার ক্ষমতা রাখে কমিশন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন