কারান্তরালে থেকেও এবার জাতীয় নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বন্দিরা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০২৬ সালের গণভোটে জেলখানায় বা আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার ইসির নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এই সংক্রান্ত একটি চিঠি কারা মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮ (সংশোধন ২০২৫)-এর নতুন ধারা অনুযায়ী, ‘ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং’ (আইসিপিভি) পদ্ধতির মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বন্দিরা এই অধিকার পাচ্ছেন।
নিবন্ধন ও ভোট প্রক্রিয়া
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্দিদের ভোটার নিবন্ধনের জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্মুক্ত করা হবে। কারা কর্তৃপক্ষ মনোনীত প্রতিনিধিরা বন্দিদের তথ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত পোর্টালে আপলোড করবেন। নিবন্ধিত ভোটাররা কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি ‘বহির্গামী খাম’ পাবেন, যার ভেতরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আলাদা দুটি ব্যালট পেপার, ঘোষণাপত্র এবং রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা সংবলিত একটি ‘ফেরত খাম’ থাকবে।
ভোটের গোপনীয়তা ও ব্যালট
সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে কোনো প্রার্থীর নাম থাকবে না; শুধু বরাদ্দকৃত প্রতীকগুলো থাকবে। জেলখানার ভেতরেই একটি গোপন কক্ষে ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রতীকের পাশে টিক (√) বা ক্রস (x) চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন। ভোট শেষে প্রয়োজনীয় ঘোষণাপত্রসহ ব্যালটগুলো সিলগালা খামে ভরে ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হবে। এই ডাক যাতায়াতের জন্য ভোটারদের কোনো মাশুল বা স্ট্যাম্প লাগবে না।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ ও ডাক বিভাগ সমন্বয় করে ব্যালটগুলো দ্রুততম সময়ে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন