পাবনা-১ ও ২ আসনে ভোট স্থগিত, সীমানা জটিলতায় ইসির বড় সিদ্ধান্ত

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম
পাবনা-১ ও ২ আসনে ভোট স্থগিত, সীমানা জটিলতায় ইসির বড় সিদ্ধান্ত

পাবনা জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে আকস্মিক মোড় এসেছে। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের জেরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনার দুটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আসন দুটি হলো ৬৮, পাবনা ১ এবং ৬৯, পাবনা ২। 

শনিবার নির্বাচন কমিশনের উপ সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিশেষ পরিপত্রের মাধ্যমে এই স্থগিতাদেশের কথা জানানো হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এই দুটি আসনের ভোটারদের আপাতত ব্যালট পেপারে সিল মারার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

পরিপত্র অনুযায়ী, পাবনার এই দুটি নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন ছিল। গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ এই সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং আইনি প্রক্রিয়া সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এই দুই আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

নির্বাচন কমিশনের পরিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। এর ফলে প্রার্থী এবং ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পাবনা ১, সাথিয়া ও বেড়া উপজেলার একাংশ এবং পাবনা ২, সুজানগর ও বেড়া উপজেলার একাংশ আসনের ভৌগোলিক সীমানা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা ও ভোটারদের মধ্যে আগে থেকেই বিভেদ ছিল। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট ইউনিয়ন বা গ্রামকে একটি আসন থেকে অন্য আসনে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছিল। 

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, জনশুমারি এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার ভিত্তিতে সীমানা বিন্যাসে কিছু অসংগতি থাকতে পারে। আপিল বিভাগের ৫ জানুয়ারির আদেশের পর কমিশন বুঝতে পারে যে, বর্তমান সীমানায় ভোট গ্রহণ করা হলে তা আইনত প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত থাকায় প্রার্থীরা ইতিমধ্যে নির্বাচনী মাঠে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। আজ শনিবারের এই স্থগিতাদেশের খবরে অনেক প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে স্তব্ধতা নেমে আসে। পাবনা ১ আসনের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আমরা জনসংযোগের শেষ পর্যায়ে ছিলাম। ভোটারদের কাছে গিয়েছি, প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এখন ভোট স্থগিত হওয়া মানে আমাদের সব পরিশ্রম এবং আর্থিক বিনিয়োগ অনিশ্চয়তায় পড়া। তবে আমরা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর শ্রদ্ধাশীল।

সাথিয়া ও সুজানগর এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, সীমানা জটিলতা সমাধান হওয়া জরুরি ছিল, কারণ সঠিক সীমানা না থাকলে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে জটিলতা তৈরি হয়। 

অন্যদিকে, হঠাৎ ভোট স্থগিত হওয়ায় নির্বাচনী আমেজে ভাটা পড়েছে বলে সাধারণ মানুষ মন্তব্য করছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি তারা দ্রুত পর্যালোচনার জন্য আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসবেন। যদি সীমানা পরিবর্তন করতে হয়, তবে পুনরায় খসড়া প্রকাশ এবং গণশুনানি হতে পারে। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে।

তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এই দুই আসনের জন্য আলাদা নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। অর্থাৎ, পাবনার এই দুই আসনের বাসিন্দারা হয়তো অন্যদের চেয়ে কিছুটা দেরিতে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। 

পাবনার দুটি আসনে ভোট স্থগিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনি লড়াইয়ের জয় পরাজয় যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত জনগণের ভোটাধিকার যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকেই নজর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার বিষয়, আইনি জট কত দ্রুত খোলে এবং পাবনাবাসী কবে নাগাদ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

জেএইচআর