আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিবেচনায় দেশের তিন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাকে সশস্ত্র দেহরক্ষী প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের এক সিদ্ধান্তে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাদের দেহরক্ষী দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং মেহেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাসুদ অরুণ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় ২০ জন রাজনীতিবিদ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে সবার আবেদন মঞ্জুর করা হয়নি। জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের আবেদন নাকচ করা হয়েছে।
নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ না করা এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বড় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকায় তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইনের (হিরু) আবেদনও নাকচ করেছে মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত অস্ত্র বা দেহরক্ষী বরাদ্দের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর প্রয়োজনে আরও কিছু প্রার্থীকে দেহরক্ষী দেওয়া হতে পারে। তবে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক দেহরক্ষী ও বাসভবনের নিরাপত্তার আবেদনটি বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়া বিএনপির বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখ এবং এনসিপির সাবেক নেতা মুনতাসির মাহমুদও প্রাণনাশের হুমকির মুখে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন।
এমনকি প্রয়াত বিএনপি নেতা খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আকতার হামিদ পবনও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর সরকার ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা-২০২৫’ জারি করার পর থেকেই আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন