ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির সপ্তম দিনে বড় ধরনের নাটকীয়তা ও প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবর এসেছে।
শুক্রবার ছুটির দিনেও আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ৪৩ জন প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি করা হয়, যার মধ্যে ১৮ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির সপ্তম দিনের কার্যক্রম আজ সম্পন্ন হয়েছে।
ছুটির দিনের আলস্য ছাপিয়ে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে এ রুদ্ধশ্বাস শুনানি। এদিন নির্বাচন কমিশনের এজলাসে ঝুলে থাকা ভাগ্যের জট খুলেছে অনেক প্রার্থীর, আবার অনেকের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে চূড়ান্তভাবে।
আজকের শুনানির মূল আকর্ষণ ছিল আপিল আবেদনের ক্রমিক নম্বর ৪৮১ থেকে ৫১০ পর্যন্ত। তবে কমিশন আজ সব মিলিয়ে ৪৩টি আবেদনের শুনানি সম্পন্ন করেছে।
শুনানির ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, আপিল মঞ্জুর হয়েছে ১৮টি যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত বৈধতা পেলেন। আপিল নামঞ্জুর হয়েছে ২১টি যাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাতিল সিদ্ধান্ত বহাল রইল। এ ছাড়া ৪টি আবেদন অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্রের জন্য অপেক্ষমাণ বা সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে দেখা গিয়েছিল এক বিশাল ছাঁটাই প্রক্রিয়া।
৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৩টি বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। এ বাতিলের পাহাড় থেকে নিজেদের প্রার্থিতা পুনরুদ্ধারে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছিল।
সপ্তম দিনের শুনানিটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনাররা বিকেল পর্যন্ত শুনানি চালিয়েছেন। মূলত নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী সময়সীমা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় কমিশন অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছে যাতে আগামী ১৮ জানুয়ারির মধ্যে সব আপিল নিষ্পত্তি করা যায়। প্রতিটি শুনানিতে প্রার্থীর আইনজীবী এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে আইনি লড়াই চালিয়েছেন।
যারা আজ প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তারা আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত নিজেদের কৌশল নির্ধারণ করবেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং এরপরই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা।
অন্যদিকে, যাদের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে, তাদের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন