আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটকে কেন্দ্র করে বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটারদের মধ্যে অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ও সহজতর পদ্ধতিতে পোস্টাল ব্যালট পেপার পাঠানোর ফলে প্রবাসীরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগে রেকর্ড সৃষ্টি করছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ২১ হাজার ৫০৮ জন প্রবাসী ভোটারের ব্যালট পেপার ভোট সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।
প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন ও ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ করতে চালু হওয়া ‘ওসিভি-এসডিআই’ (OCV-SDI) প্রকল্পের আওতায় এই বিশাল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকালে বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান পোস্টাল ভোটের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন।
প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়। সালীম আহমাদ খান জানান, এই অ্যাপের মাধ্যমে দেশ এবং বিদেশ মিলিয়ে সর্বমোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে বড় একটি অংশই প্রবাসী বাংলাদেশি, যারা দূরপ্রবাসে থেকেও দেশের ভাগ্য নির্ধারণে অংশ নিতে আগ্রহী।
প্রকল্প প্রধানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পোস্টাল ভোটের ক্যাটাগরি সংখ্যা (জন)- নিবন্ধনকারী প্রবাসী ভোটার (অ্যাপের মাধ্যমে) ৭,৬৬,৮৬২, গন্তব্যের দেশে ব্যালট পৌঁছেছে ৭,৬৬,৮৬২, প্রবাসী ভোটার যারা ব্যালট গ্রহণ করেছেন ৪,৯৩,৯২০, ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন ৪,২৫,৭৮৮, পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন ৩,৭০,৩২২ ও বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে এমন ব্যালট ২১,৫০৮।
সালীম আহমাদ খান জানান, নিবন্ধনকারী ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসীর প্রত্যেকের গন্তব্যের দেশে নির্বাচন কমিশন সময়মতো ব্যালট পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯২০ জন প্রবাসী ভোটার নিজ হাতে ব্যালট পেপার গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৭৮৮ জন অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাদের ভোট প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।
প্রবাসী ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর সেটি স্থানীয় ডাক বিভাগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ঠিকানায় পাঠাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ জন ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ড্রপবক্সে জমা দিয়েছেন। সমুদ্র ও আকাশপথ পাড়ি দিয়ে সেসব ব্যালট এখন বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে প্রবাসীদের ভোটাধিকার সবসময়ই একটি আলোচিত বিষয় ছিল। অতীতে পোস্টাল ব্যালটের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত জটিল এবং ম্যানুয়াল। কিন্তু ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এবার নিবন্ধন থেকে শুরু করে ট্র্যাকিং পর্যন্ত ডিজিটাল হওয়ায় প্রবাসীরা উৎসাহিত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২১ হাজার ৫০৮ জন প্রবাসীর ভোট ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছানো একটি বিশাল কারিগরি সাফল্য। এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অংশ নিতে পারেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য মূল নির্বাচনের আগেই এই ভোটগুলো গণনা প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট সুরক্ষিত দপ্তরে জমা রাখা হচ্ছে।
আগামী কয়েক দিনে প্রবাস থেকে আসা ব্যালটের সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ডাক বিভাগের বিশেষ শাখা এসব ব্যালট দ্রুত সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এবারের নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট কেবল অংশগ্রহণই বাড়াবে না, বরং নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন