ইসি সানাউল্লাহ

ভোটে কারচুপি বা বাধার সুযোগ নেই

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১০:০৫ এএম
ভোটে কারচুপি বা বাধার সুযোগ নেই

চলমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্থের জোরে জনমত প্রভাবিত করার যেকোনো হীন প্রচেষ্টা কঠোর হস্তে দমনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 

বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভোট কেনার কোনো প্রয়াসই সফল হতে দেওয়া হবে না এবং এ ক্ষেত্রে অপরাধী যেই হোক, কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

সকাল ৯টার পর রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ভোট প্রদান শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন। 

সাম্প্রতিক কিছু এলাকায় অর্থসহ আটকের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি কিছুটা শ্লেষ মিশিয়েই বলেন, বিভিন্ন জায়গায় টাকা নিয়ে ধরা খাওয়াটা ভালো। তাঁর এই মন্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং অপরাধীরা ধরা পড়ছে, যা একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ নির্বাচনী মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে চরম মূল্য দিতে হবে।

ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ইসি সানাউল্লাহ জানান যে, ভোট শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কমিশনের কাছে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ আসেনি। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং মানুষ নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসছে। তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং সত্য তুলে ধরার উদাত্ত আহ্বান জানান, যাতে গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে।

আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ চলছে, যেখানে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত রয়েছে। নির্বাচনে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে এবং মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর হার অত্যন্ত নগণ্য, যার সংখ্যা মাত্র ৮৩ জন। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন। নারী প্রার্থীদের মধ্যে দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্রভাবে লড়ছেন ২০ জন। পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় এবং ২৫৩ জন স্বতন্ত্র।

নির্বাচন বর্জনের সংস্কৃতির বিপরীতে এবারের নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ বিশেষ নজর কেড়েছে। সকাল থেকেই বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দিতে দেখা গেছে। নেতাদের এই অংশগ্রহণ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গতকাল বুধবার থেকেই দেশের প্রতিটি কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ব্যালট পেপার এবং বাক্সের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সারারাত কেন্দ্রগুলোতে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করেছেন পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ চললেও শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে। এই আসনটিতে পরবর্তী সময়ে পুনঃতফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর আজকের বক্তব্য এটিই প্রমাণ করে যে, নির্বাচন কমিশন একটি স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে টাকা নিয়ে ধরা পড়া সংক্রান্ত তাঁর মন্তব্যটি অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনা চক্রগুলোর জন্য একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, বিকেলের শেষ পর্যন্ত এই শৃঙ্খলা বজায় থাকে কি না।

জেএইচআর