চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁদের পুরোনো সম্পর্ক। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাবেক ডিবি এডিসি) গোলাম সাকলায়েনকে এই শাস্তি দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর সাকলায়েনকে নিয়ে পরীমণির পূর্বের একটি সাক্ষাৎকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে প্রচার হচ্ছে। যেখানে তিনি বলেছিলেন, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার এবং তাঁর জন্য খারাপ লাগছে। পরীমণি আরও উল্লেখ করেছিলেন, তাঁদের সম্পর্কটি নিয়ে সবখানে মনগড়া তথ্য লেখা হয়েছে, যার সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ জনগণ রাখেনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গোলাম সাকলায়েন বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে বিয়েবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সরকারি বাসভবনে ওই নায়িকার সঙ্গে সময় কাটানো ও জন্মদিন উদযাপনের বিষয়টি বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে আসায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই অসদাচরণের কারণেই তাঁকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের জুনে ঢাকা বোট ক্লাবের একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থাকাকালীন পরীমণির সঙ্গে সাকলায়েনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ওই বছরের ১ আগস্ট সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনে পরীমণির যাতায়াতের সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে প্রথমে তাঁকে ডিবি থেকে বদলি, পরে সাময়িক বরখাস্ত এবং দীর্ঘ তদন্ত শেষে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন