তদন্তে নতুন মোড়: রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
তদন্তে নতুন মোড়: রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী

স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া ওরফে জাহের আলভীকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

আদালতে পুলিশ জানায়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সঙ্গে আলভীর সম্পৃক্ততার প্রমাণও মিলেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার স্বার্থে তাঁকে কারাগারে আটকে রাখা প্রয়োজন বলে পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আদালতে আলভীকে কারাগারে রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা জানান, রিমান্ড শেষে আজ আলভীর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততাও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি দাবি করেন।

এর আগে গত ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন জাহের আলভী। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠান। এর পর গত ২১ জুন মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরাকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় অপমানজনক ও উসকানিমূলক মন্তব্য করতেন আলভী।

এ ছাড়া বিবাহিত থাকা অবস্থায় অন্য এক নারীর সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে নানা ধরনের পোস্ট করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এদিকে একই মামলায় গত ৪ জুন জাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে জামিন দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে আফরা ইবনাত ইকরাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেএইচআর