ভয়াবহ ‘ফুকোশিমা ট্র্যাজেডি’র স্মৃতি পেছনে ফেলে দীর্ঘ ১৫ বছর পর আবারও বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ‘কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া’ সচল করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা টেপকো (TEPCO) এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জাপানের নিগাতা বন্দর শহরে অবস্থিত ৪২০ হেক্টরের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ৮.২ মেগাবাইট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন।
২০১১ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে ফুকোশিমা দাইচি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর নিরাপত্তার স্বার্থে জাপানের ৫৪টি পরমাণু চুল্লি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে এই কেন্দ্রের ৭টি চুল্লিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংস্কার শেষে বিশেষজ্ঞরা ৩৩টি চুল্লি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী ঘোষণা করেন, যার মধ্যে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়ার চুল্লিগুলো অন্যতম।
জাপান প্রথাগতভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের বিরোধী হলেও ফুকোশিমার ঘটনার পর তারা বাধ্য হয়ে কয়লা ও গ্যাস আমদানিতে ঝুঁকেছিল। ২০২৪ সালেই দেশটি প্রায় ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি করেছে, যা তাদের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। এই ব্যয় কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতিতে ফিরতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বন্ধ থাকা চুল্লিগুলো সচল করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তবে এই কেন্দ্রটি চালুর ক্ষেত্রে জনমতের বাধা রয়ে গেছে। ফুকোশিমা বিপর্যয়ের আতঙ্কে নিগাতার প্রায় ৬০ শতাংশ বাসিন্দা এখনই এই কেন্দ্রটি চালু করার বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে টেপকোর মুখপাত্র মাসাকাৎসু তাকাতা বলেন, "ফুকোশিমার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুরক্ষার সকল মানদণ্ড মেনেই কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা হচ্ছে।"
সূত্র: রয়টার্স
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন