মোজতবা খামেনি

চুক্তির পরও ইরানে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দেওয়া হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
চুক্তির পরও ইরানে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দেওয়া হবে

যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। চুক্তি স্বাক্ষরের পরও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকায় ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই; বরং ভয়ভীতি, আধিপত্যবাদ ও জবরদস্তিই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোজতবা খামেনির পক্ষে পাঠ করা এক লিখিত বিবৃতিতে এসব বক্তব্য তুলে ধরা হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরও ‘গ্রেট শয়তান’ বারবার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এতে আবারও প্রমাণ হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ধমক, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতার ওপর প্রতিষ্ঠিত বলেও অভিযোগ করা হয়।

খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত চরিত্র উন্মোচন করেছে। এর মাধ্যমে দেশটির প্রতারণা, অযৌক্তিকতা এবং অবিশ্বস্ততার পরিচয় আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এমন জবাব পাবে, যা তাদের জন্য ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ হয়ে থাকবে। তার দাবি, ইরানের জনগণ এবং ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।

জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে খামেনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণ ও রাষ্ট্রের সব স্তরের মধ্যে সংহতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ‘অপরাধী ও ধূর্ত’ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ইরানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক সময়ে বিজয়ের প্রধান শর্ত হলো জাতীয় সংহতি বজায় রাখা এবং বিভেদ ও মতবিরোধ থেকে দূরে থাকা।

গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের পরিবেশ তৈরিই ছিল ওই চুক্তির উদ্দেশ্য। এতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে পরবর্তীতে উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তোলে। এর জেরে তেহরান ও ওয়াশিংটন-দুই পক্ষই সমঝোতা স্মারকটিকে কার্যত বাতিল বলে ঘোষণা করেছে।

এম জি