সৌদি আরবের পবিত্র ভূমি মক্কায় উমরাহ পালন করতে আসা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ আবাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় একটি ওমরাহ কোম্পানি এবং তাদের সংশ্লিষ্ট বিদেশি এজেন্টের কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সরকার।
গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সৌদি প্রেস এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওমরাহ কোম্পানিটি ওমরাহযাত্রী ও মসজিদে নববীর দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত সেবার নীতিমালা এবং প্রবিধান লঙ্ঘন করেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, ওই কোম্পানির মাধ্যমে আসা বেশ কিছু ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর দেখেন যে তাদের জন্য কোনো আবাসন বা হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়নি, অথচ প্যাকেজ অনুযায়ী তাদের আবাসন নিশ্চিত করার কথা ছিল।
মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে গুরুতর অবহেলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ওমরাহযাত্রীদের অধিকার রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কোম্পানিটির লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে ওই কোম্পানির সাথে যুক্ত বিদেশি এজেন্টকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো উমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করা। তারা কোনোভাবেই সেবার মানের সাথে আপস করবেন না এবং যারা নিয়ম ভাঙবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে করে উন্নত সেবার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসেও পরিবহন সেবায় ঘাটতির কারণে সাতটি ওমরাহ কোম্পানিকে স্থগিত করেছিল মন্ত্রণালয়। সৌদি আরবের 'ভিশন ২০৩০' এর অধীনে ওমরাহযাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ এবং উন্নত করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, এই পদক্ষেপ তারই অংশ।
চলতি বছরের জমাদিউল আখিরা মাসে (২২ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর) বিশ্বজুড়ে ওমরাহ পালনকারীদের ঢল নেমেছে।
মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই এক মাসেই সারা বিশ্ব থেকে ১৭ লাখেরও বেশি মুসলিম সৌদি আরবে এসেছেন। বিপুল সংখ্যক এই মানুষের ভিড় সামলাতে এবং সবার আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও কড়া নজরদারি ব্যবহার করছে।
বর্তমানে সৌদি আরব সরকার সব ধরনের ভিসা ধারীদের উমরাহ পালনের অনুমতি দিয়েছে, যার ফলে ওমরাহযাত্রীদের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই দিনে রিয়াদে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সভাপতিত্বে 'প্রিন্স সৌদ আল-ফয়সাল ইনস্টিটিউট ফর ডিপ্লোম্যাটিক স্টাডিজ'-এর পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিদেশের মাটিতে সৌদি আরবের প্রভাব বৃদ্ধি এবং ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে কূটনৈতিক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সক্ষমতা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৌদি আরবের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন প্রিন্স ফয়সাল।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, উমরাহ পালনের জন্য কোনো এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে যাত্রীদের অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে ওই সংস্থাটির সৌদি আরবে নিবন্ধিত লাইসেন্স আছে কি না। 'নুসুফ' অ্যাপ বা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনুমোদিত কোম্পানিগুলোর তালিকা দেখে নেওয়া নিরাপদ। সৌদি আরবের এই কঠোর পদক্ষেপ মূলত হাজিদের এবং উমরাহযাত্রীদের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে আবাসন এবং পরিবহনের মতো মৌলিক সুবিধাগুলোতে ত্রুটি দেখা দিলে তা বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি করে। মন্ত্রণালয়ের এই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ অন্যান্য ট্রাভেল এজেন্টদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন