উমর খালিদকে মেয়রের চিঠি

নিউইয়র্ক মেয়র জোহরান মামদানিকে ভারতের কড়া তিরস্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
নিউইয়র্ক মেয়র জোহরান মামদানিকে ভারতের কড়া তিরস্কার

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিচারব্যবস্থা এবং কারাবন্দী অধিকারকর্মী উমর খালিদকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানি উমর খালিদকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি লেখায় ভারত সরকার তার তীব্র সমালোচনা করেছে। 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, অন্য দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাক না গলিয়ে মামদানির উচিত নিজের শহরের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা। ঘটনার সূত্রপাত গত ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে, যখন উমর খালিদের মা বাবা যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেন। সেখানে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে তাঁদের একটি সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সাক্ষাতের পর মামদানি উমর খালিদকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি লেখেন। 

সম্প্রতি খালিদের পরিবার সেই চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিতে মামদানি লিখেছেন যে, প্রিয় উমর, তিক্ততার গ্রাসে না পড়ার বিষয়ে তোমার কথাগুলো আমি প্রায়ই স্মরণ করি, তোমার মা বাবার সঙ্গে দেখা হওয়াটা আনন্দের ছিল, আমরা সবাই তোমার কথা ভাবছি।

এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল একটি কড়া বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা আশা করি, জনপ্রতিনিধিরা অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত পক্ষপাত প্রকাশ করাটা সমীচীন নয়। 

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কার্যালয় থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের মন্তব্যের পরিবর্তে মার্কিন কর্মকর্তাদের নিজেদের অর্পিত দায়িত্বে মন দেওয়া উচিত। নয়াদিল্লির মতে, উমর খালিদের বিষয়টি সম্পূর্ণই ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া এবং এতে কোনো বিদেশি কর্মকর্তার মন্তব্য অনভিপ্রেত।

শুধু নিউইয়র্ক মেয়রই নন, উমর খালিদ ইস্যুতে সরব হয়েছেন আটজন প্রভাবশালী মার্কিন আইনপ্রণেতাও। গত ৩০ ডিসেম্বর তারা ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রাকে একটি যৌথ চিঠি লিখে খালিদকে জামিন দেওয়ার এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু বিচার কাজ চালানোর আহ্বান জানান। 

এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির জিম ম্যাকগভার্ন, প্রমিলা জয়াপাল ও রাশিদা তালিবের মতো হেভিওয়েট নেতারা। পাশাপাশি, ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন সংস্থা ইউএসসিআইআরএফ ভারতকে বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, উমর খালিদ ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার হওয়ার কারণেই রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও অধিকারকর্মী উমর খালিদকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লির দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিতর্কিত আনলফুল অ্যাকটিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট বা বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এই আইনের আওতায় অভিযুক্তদের জামিন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং দীর্ঘদিন বিনা বিচারে আটকে রাখা সম্ভব হয়। 

দিল্লি পুলিশ দাবি করছে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদের সময় দিল্লির ভয়াবহ দাঙ্গা উমর খালিদ ও তাঁর সহযোগীদের নীল নকশার ফল ছিল। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বরাবরই বলে আসছে যে, উমর খালিদকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হিসেবে কারাগারে রাখা হয়েছে। 

সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আবারও উমর খালিদের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। গত পাঁচ বছরে তাঁর জামিন আবেদন বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলোও। ৫ জানুয়ারি এই মামলার কয়েকজন অভিযুক্ত জামিন পেলেও খালিদকে মুক্তি দেয়নি আদালত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোহরান মামদানি বা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই তৎপরতা ভারত মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে খালিদের জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে এবং তিনি এখনো কারাবন্দী রয়েছেন।

জেএইচআর