মার্কিন নাগরিকদের সৌদি ছাড়ার নির্দেশ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
মার্কিন নাগরিকদের সৌদি ছাড়ার নির্দেশ 

পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি আজ বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যকার সংঘাত এখন আর কেবল সীমান্ত বা নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। 

রোববার রিয়াদ ও ওয়াশিংটন থেকে আসা খবরগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।

আজ দুপুরে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে এক জরুরি ও নজিরবিহীন নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সকল নাগরিককে অনতিবিলম্বে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশটি ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক নির্দেশের পর মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী ও কূটনৈতিক মহলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরে ইরান ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাত অথবা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোতে ইরানের বড় মাপের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই ‘ইভাকুয়েশন’ বা প্রস্থান নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে সৌদি আরবে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানে হামলার ঘটনা এই আশঙ্কাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে অন্তত ১০৮ জন ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সংঘাত শুরুর পর এটি ইসরায়েলের বেসামরিক জনপদে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া অন্যতম শক্তিশালী আঘাত।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে তেল আবিব এবং এর আশপাশের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে অনেক নারী ও শিশু আহত হয়েছেন।

যুদ্ধের ময়দান ছাপিয়ে এখন ব্যক্তিগত স্তরে পৌঁছেছে বৈরিতা। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি প্রদান করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনের হামলার দায়ভার নেতানিয়াহুর এবং এর ‘উপযুক্ত মূল্য’ তাঁকে জীবন দিয়ে শোধ করতে হবে। এই হুমকির পর মোসাদ ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের সুরক্ষা কয়েক স্তরে বৃদ্ধি করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আজ এক বিস্ফোরক তথ্যে দাবি করেছেন যে, রাশিয়া এখন সরাসরি ইরানকে ড্রোন এবং কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এর বিনিময় হিসেবে ইরান থেকে তারা গোলাবারুদ পাচ্ছে। এই নতুন ‘অশুভ অক্ষশক্তি’র উত্থান যুক্তরাষ্ট্রকে চরম উদ্বেগে ফেলেছে। অন্যদিকে, ব্রিটেনও ঘোষণা করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই অঞ্চলে উন্নত ড্রোন বহর পাঠাচ্ছে।

ওয়াশিংটন এক সপ্তাহ সময় দিলেও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে থামার কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ প্রমাণ করে যে, আগামী কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হতে যাচ্ছে। বিশ্ববাজার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জনজীবন সবই এখন পারস্য উপসাগরের আগুনের লেলিহান শিখায় বন্দি।

এএন