পবিত্র রমজান মাসের সমাপনীলগ্নে কাতারজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। কাতারের এনডাউমেন্টস এবং ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় (আওকাফ) আজ বুধবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখার জন্য দেশের সকল মুসলিম নাগরিক ও বাসিন্দাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে।
কাতারের চাঁদ দেখা কমিটি আজ মাগরিবের নামাজের পরপরই মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে এক জরুরি বৈঠকে বসবে। যদি আজ সন্ধ্যায় আরবের আকাশে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ দেখা যায়, তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) কাতারে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর যদি আজ চাঁদ দেখা না যায়, তবে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং সেক্ষেত্রে শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ পালিত হবে।
কাতারের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চাঁদ দেখা কমিটি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আজ বুধবার সূর্যাস্তের পর কেউ যদি খালি চোখে বা দূরবীন ও আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখতে পান, তবে যেন দ্রুত আল-দাফনা (টাওয়ারস) এলাকায় অবস্থিত মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে গিয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পবিত্র রমজানের ২৯তম দিনে (১৪৪৭ হিজরি) চাঁদ দেখা সুন্নাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যারা চাঁদ দেখতে সক্ষম হবেন, তারা যেন প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ দ্রুত আমাদের কমিটির সাথে যোগাযোগ করেন। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত ঘোষণা প্রদান করব।’
কাতারের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টও আজ বুধবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে। উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ বুধবার রমজানের ২৯তম দিন। যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশ একই ভৌগোলিক বলয়ে অবস্থিত, তাই সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেলে কাতারেও ঈদ পালিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে।
তবে কাতার তার নিজস্ব ঐতিহ্য ও ধর্মীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে। দোহা, লুসাইল এবং ওয়াকরাহর মতো শহরগুলোতে বিশেষ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যাতে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাহায্যে চাঁদ দেখা নিশ্চিত করা যায়।
২০২৬ সালের এই ঈদটি কাতারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রমজান মাস জুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পালনের পর এখন বিনোদনের প্রস্তুতি তুঙ্গে।
দোহার ঐতিহ্যবাহী 'সুক ওয়াকিফ' এবং বড় বড় শপিং মলগুলোতে গত কয়েক রাত ধরে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পোশাক, সুগন্ধি এবং মিষ্টির দোকানগুলোতে কেনাকাটা এখন তুঙ্গে।
আজ দোহার আবহাওয়া চাঁদ দেখার জন্য বেশ অনুকূল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিষ্কার আকাশ এবং নাতিশীতোষ্ণ তাপমাত্রা চাঁদ পর্যবেক্ষকদের জন্য সহায়ক হবে।
কাতারের শিক্ষা সিটি স্টেডিয়াম, লুসাইল এবং দোহার প্রধান ইদগাহগুলোতে ঈদের জামাতের জন্য বিশাল প্যান্ডেল ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কাতারে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের মাঝেও এই ঈদকে ঘিরে ব্যাপক উদ্দীপনা কাজ করছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি প্রতি বছর ঈদের সকালে দেশের নাগরিক ও বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এবারও সেই আভিজাত্যপূর্ণ আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
উপসংহার
তথ্যসূত্র: আওকাফ মন্ত্রণালয় (কাতার)
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন