দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ) মহাসমারোহে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
গালফ নিউজ ও সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে আজ রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ২৯ রমজান শেষে চাঁদ দেখা না গেলে হিজরি মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হয়। সেই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার শাওয়াল মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ঈদের দিন হিসেবে গণ্য হবে।
২০২৬ সালের এই ঈদটি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এক সংকটময় মুহূর্তের সাক্ষী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের পরামর্শে সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবং কাতার সরকার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ বছর এই দুই দেশে নিরাপত্তার খাতিরে কোনো খোলা মাঠ বা বড় ইদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। ড্রোনের আঘাত বা ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সব ধরণের জনসমাগম কেবল মসজিদের ভেতরে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
চাঁদ দেখার পাশাপাশি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবের ওপর ভিত্তি করে কিছু দেশ ইতিমধ্যেই ঈদের তারিখ চূড়ান্ত করেছে।
আঙ্কারা সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনার নিরিখে আগামী শনিবার (২১ মার্চ) ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই ভিন্নতা হিজরি ক্যালেন্ডার ও স্থানীয় চাঁদ দেখার পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে, যা প্রতি বছরই বিশ্বজুড়ে এক বৈচিত্র্যময় উৎসবের আবহ তৈরি করে।
সৌদি আরবের এক দিন পর সাধারণত বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর পালিত হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশে শনিবার ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো দেশ। ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতেই বাংলাদেশে ঈদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
লোহিত সাগরে মার্কিন রণতরিতে হামলা এবং ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনির অনমনীয় অবস্থানের কারণে এবারের ঈদ আরব বিশ্বে কিছুটা ম্লান হয়ে পড়েছে। রিয়াদ, দুবাই বা দোহার আলোকসজ্জার চেয়েও মানুষের মনে এখন বেশি কাজ করছে নিরাপত্তার শঙ্কা। তবুও ধর্মীয় রীতি মেনে মুসলমানরা তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব পালনে ব্রতী হয়েছেন।
মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে (হারামাইন) কুরআন খতমের রাতে যে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল, সেই আধ্যাত্মিক শক্তি নিয়েই শুক্রবার সকালে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা।
এক মাসের ত্যাগ-তিতিক্ষা আর প্রার্থনার পর ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে। ২০২৬ সালের এই সংকটাপন্ন সময়েও মুসলিম বিশ্ব আশা করছে যে, ঈদের এই পবিত্র মুহূর্তটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। শুক্রবার সকালে যখন আরবের আকাশে ঈদের তাকবির ধ্বনিত হবে, তখন সবার একমাত্র কামনাই হবে—নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তি।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ, এএফপি এবং সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA)।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন