ইরানের ভূখণ্ডে নিখোঁজ হওয়া মার্কিন কর্নেল ও পাইলটকে উদ্ধার করার অভিযানকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জটিল ও সাহসিকপূর্ণ সামরিক অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আলজাজিরা ও মার্কিন প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, এই উদ্ধার অভিযানে মার্কিন স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের কয়েকশ সদস্য অংশ নিয়েছিল।
সাধারণত রাতের অন্ধকারে অভিযান চালানো মার্কিন বিশেষ বাহিনী এবার দিনের আলোতে কাজ শেষ করেছে। উদ্ধারকারী দল যখন পাইলটের অবস্থানের কাছে পৌঁছায়, তখন ইরানি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। রক্তক্ষয়ী এই লড়াইয়ের মাঝেও পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এ অভিযানে মার্কিন বাহিনী একজন কর্নেল পদমর্যাদার অফিসারের অবস্থান ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করে এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাকে উদ্ধার করেছে। অভিযানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রসজ্জিত বিমানও ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, পাইলট কিছুটা আহত হয়েছেন, তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।
পাইলটকে উদ্ধার করার পর মার্কিন দলকে কয়েক ঘণ্টা ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থান করতে হয়েছে, যা নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। উদ্ধারকারীদের ‘এক্সফিল্ট্রেশন’ বা নিরাপদ বহির্গমন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শঙ্কা চলছেই।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিখোঁজ পাইলটদের উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে বিমানবাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে মার্কিন সূত্র নিশ্চিত করেছে, উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছে। এর মধ্যে, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর, পাইলটরা প্যারাশুটে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রদেশে নামেন।
শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছে এবং পাইলট নিরাপদ স্থানে আছেন। ট্রাম্প বলেন, একজনও মার্কিন সেনা আহত বা নিহত হয়নি, এবং এই অভিযান প্রমাণ করেছে মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশে আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সাবেক স্পেশাল ফোর্স কর্মকর্তা মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, "আমেরিকার জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির মুহূর্ত। স্পেশাল অপারেশনস বাহিনী অসাধারণ কাজ করেছে।"
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করেছে, যেখানে মার্কিন ও ইরানি সম্পর্কের উত্তেজনা আবারও উঠে এসেছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন