যুক্তরাষ্ট্রের টানা বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় এক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানি সেনাবাহিনী এবং দেশটির এলিট ফোর্স রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) দাবি অনুযায়ী, তারা ৫টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে থাকা একাধিক মার্কিন লক্ষ্যবস্তুকে সফলভাবে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত গত কয়েক দিন ধরে ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কর্তৃক চালানো বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই সমন্বিত পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান।
যেসব দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সামরিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়।
কুয়েতের অন্যতম প্রধান মার্কিন লজিস্টিক হাব ক্যাম্প আরিফজান ও আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের স্থল বাহিনী। এছাড়া আল-আহমাদি বন্দরে মার্কিন নৌবহরের ফুয়েল সাপোর্ট পিয়ারেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর লজিস্টিক কেন্দ্র শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি এবং মার্কিন নৌ-ড্রোন ঘাঁটির ফুয়েল ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এছাড়া সেখানে একটি গোয়েন্দা ডেটা সেন্টার ধ্বংসের দাবি করেছে আইআরজিসি।
জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটি-তে অবস্থানরত মার্কিন ফাইটার জেট ও রিফুয়েলিং বিমান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তবে জর্ডান বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে।
সিরিয়ার আল-তানফ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্পেশাল অপারেশন কমান্ড সেন্টারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ওমানে মার্কিন বাহিনীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাডার সাইট লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন রাডার ব্যবস্থা এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত কয়েক দিন ধরে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের টানা সপ্তম রাতের বিমান হামলার পরই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে এই নজিরবিহীন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান।
এই ঘটনার পর সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন