ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসন্ন নৌ-অবরোধকে সামনে রেখে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশ একযোগে কাজ করছে, যাতে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রি করতে না পারে।
রোববার রাতে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সোমবার সকাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই অবরোধ ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক পরিস্থিতিতে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটন এক ধরনের আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পথে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে, যদিও দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।
ইরানের নৌবাহিনী প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাদের শক্তি অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, নৌ-অবরোধ কার্যকর হলে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে, কারণ অন্যান্য দেশও এতে সহযোগিতা করছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। ট্রাম্প জানান, অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচল শুরু করেছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবহার করে বৈশ্বিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করবে এবং জাহাজগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ রুট এড়িয়ে চলতে উৎসাহিত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন