ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আত্মত্যাগীদের ‘নায়ক’ আখ্যা দিলেন কিম জং উন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আত্মত্যাগীদের ‘নায়ক’ আখ্যা দিলেন কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়া উত্তর কোরীয় সেনাদের তীব্র আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, সর্বোচ্চ সম্মান রক্ষার জন্য যেসব সেনা বিনা দ্বিধায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, এমনকি নিজেরাই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রাণ দিয়েছেন, তারা প্রকৃত অর্থে নায়ক।

দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের কিছু অংশ পুনর্দখলের অভিযানে সহায়তার জন্য উত্তর কোরিয়া অন্তত প্রায় পনেরো হাজার সেনা পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, সেখানে যুদ্ধ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা নিহত হয়েছেন। তবে পিয়ংইয়ং কিংবা মস্কো, কোনো পক্ষই এই সংখ্যাগুলো নিশ্চিত করেনি।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য এবং উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, পিয়ংইয়ং নাকি তাদের সেনাদের নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দী হওয়ার পরিবর্তে আত্মঘাতী পথ বেছে নেয়।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, নিহত সেনাদের স্মরণে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে একটি স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করা হয়েছে। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে কিম জং উন বলেন, কোনো ধরনের প্রতিদান বা পুরস্কারের আশা ছাড়াই যারা দায়িত্ব পালন করেছে, তারা নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রতীক।

অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুসভ এবং পার্লামেন্টের স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভলোদিন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছিল, নিহত উত্তর কোরীয় সেনাদের কাছ থেকে পাওয়া কিছু লেখা থেকে বোঝা যায় যে তাদের মধ্যে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিক করে তোলার মতো নির্দেশনা বা ধারণা প্রচলিত ছিল।

উত্তর কোরিয়ার সামরিক ব্যবস্থায় সেনাদের শেখানো হয় যে শত্রুর হাতে বন্দী হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহের সমান অপরাধ।

চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি টেলিভিশন প্রতিবেদনে ইউক্রেনে আটক দুই উত্তর কোরীয় সেনার বক্তব্য প্রচার করা হয়। সেখানে এক সেনা বলেন, তিনি আত্মহত্যা করতে না পারায় অনুতপ্ত, কারণ অন্যরা নিজেদের জীবন শেষ করেছে।

অন্যদিকে কিম জং উন বলেন, যারা যুদ্ধের অগ্রভাগে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে, এমনকি আদেশ পালন করতে না পারার মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মারা গেছে, তারাও পার্টির প্রতি অনুগত যোদ্ধা ও দেশপ্রেমী হিসেবে বিবেচিত।

গত বছর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যেখানে বলা হয় কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে তারা একে অপরকে সহায়তা করবে। কিম ওই চুক্তিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

সামরিক সহায়তার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া কুরস্ক অঞ্চলের পুনর্গঠন কাজে সহায়তার জন্য হাজার হাজার শ্রমিক পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

এম জি