ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে।
বুধবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটদানের হার প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়, যা ২০১১ সালের ঐতিহাসিক রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গেছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা বাকি থাকতেই ৮৯.৯৯ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য জানায় নির্বাচন কমিশন। এর আগে প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল ৮৯.৯৩ শতাংশ। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে এই দফার লড়াই।
নির্বাচন শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন জরিপ সংস্থা তাদের বুথফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’ প্রকাশ করেছে। ২৯৪ আসন বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
অধিকাংশ জরিপ সংস্থাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এবার মমতা ব্যানার্জির এক দশকের বেশি সময়ের শাসনকাল অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিশেষ করে 'প্রজা পোল', 'পি-মার্ক' এবং 'চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস'-এর মতো সংস্থাগুলো বিজেপিকে ১৫০ থেকে ২০০-র বেশি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে।
তবে সব জরিপই যে বিজেপির পক্ষে কথা বলছে, তা নয়। ‘জনমত পোল’ এবং ‘পিপলস পালস’-এর মতো সংস্থাগুলো এখনো মমতা ব্যানার্জির ওপরই আস্থা রাখছে। তাদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস ১৯০ থেকে ২০৫টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরবে।
এই দুই জরিপ অনুযায়ী, বিজেপি ৮০ থেকে ১১০টি আসনেই থমকে যেতে পারে। মূলত নারী ভোটার ও তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে ভোটের উচ্চ হার মমতার পক্ষে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক লড়াই এখন শুধু ভারতের নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুথফেরত জরিপগুলো সবসময় হুবহু না মিললেও, এটি জনমতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন তুলে ধরে।
তৃণমূল কি পারবে তাদের দুর্গ রক্ষা করতে, নাকি বিজেপি নতুন ইতিহাস গড়ে নবান্ন দখল করবে এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে। ঐদিন ভোট গণনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে পশ্চিমবঙ্গের আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন