ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি এবং এর মাধ্যমে কোনো লক্ষ্যই অর্জন করা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে পেজেশকিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক বিধি লঙ্ঘন করে আরোপিত কোনো নৌ অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য। তার মতে, এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে উল্টো উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
এদিকে ইরান নতুন এক ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই অস্ত্রটি শত্রুপক্ষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সক্ষম, এমনকি এটি ‘হার্ট অ্যাটাক’ এর কারণও হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানানো হয়, দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেছেন, খুব শিগগিরই এমন একটি অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা ইরানের হাতে আসবে, যা শত্রুদের গভীরভাবে ভীত করবে। তিনি আরও বলেন, এই হুমকি বাস্তবেই তাদের সীমানার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
শাহরাম ইরানি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েও সমালোচনা করেন। তার মতে, ইরানের তেল বাণিজ্য বন্ধ করে দেশটিকে আলোচনায় আনার চেষ্টা সফল হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দেখিয়ে দিয়েছে যে এই ধরনের কৌশল উল্টো ফল দিচ্ছে এবং সামরিক মহলেও তা নিয়ে হাস্যরস তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালী খোলার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার যে প্রস্তাব ইরান দিয়েছিল, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই ইরান নতুন করে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় এবং সতর্কবার্তা দেয় যে, চাপের রাজনীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে ঘনীভূত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন