যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়ে ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরুর আগে এই দাম ছিল ৩ ডলারের নিচে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে জ্বালানির দাম বেড়েছে প্রায় ২৭ সেন্ট। এর মূল কারণ হিসেবে ইরানের হরমুজ প্রণালি অবরোধ এবং দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে দায়ী করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেখানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত চার বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি। এর আগে ২০২২ সালের জুলাই মাসে তেলের দামে এমন ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সময় এখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রয়েছে। তিনি ইরানের দেওয়া প্রাথমিক চুক্তির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছিল।
জ্বালানির উচ্চমূল্য প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেব না। যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, যুদ্ধবিরতি হলেও তেলের দাম সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে কমে না।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, নৌ অবরোধের মাধ্যমে একটি জাতির ওপর কার্যত সামরিক দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে। এমন আচরণ দীর্ঘক্ষণ চলতে পারে না।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন