ইরানে ধাক্কা খেয়ে কীসের আশায় চীনে যাচ্ছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৭:৫১ এএম
ইরানে ধাক্কা খেয়ে কীসের আশায় চীনে যাচ্ছেন ট্রাম্প
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, দেশের ভেতরে শুল্কনীতি নিয়ে আইনি জটিলতা এবং জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার চাপের মধ্যেই চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং সফরে এবার আগের মতো কঠোর অবস্থান নয়, বরং বাস্তবধর্মী সমঝোতার পথেই হাঁটতে চাইছেন তিনি।

আগামী ১৪ ও ১৫ মে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প মূলত বাণিজ্য সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীল করা এবং ইরান ইস্যুতে চীনের সহযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আলোচনায় চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনই বেশি।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক আলেহান্দ্রো রেয়েস বলেন, ট্রাম্প এমন একটি কূটনৈতিক অর্জন খুঁজছেন, যা দিয়ে তিনি দেখাতে পারবেন যে তার প্রশাসন শুধু উত্তেজনা নয়, স্থিতিশীলতাও তৈরি করতে সক্ষম।

গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় সংক্ষিপ্ত এক বৈঠকের সময় ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর উচ্চহারের শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিলেন। এরপর বেইজিং বিরল খনিজ রপ্তানিতে কিছুটা শিথিলতা আনলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল আরও জোরদার করে।

এদিকে দেশে ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতের শুল্কবিরোধী রায়, ইরান সংকট এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করছেন ৬০ শতাংশের বেশি মার্কিন নাগরিক।

চীন সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকবেন টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক এবং অ্যাপলের প্রধান টিম কুকসহ কয়েকজন শীর্ষ করপোরেট প্রতিনিধি। যদিও ২০১৭ সালের তুলনায় এবারের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল তুলনামূলক ছোট। বৈঠকে কৃষিপণ্য, গরুর মাংস এবং বোয়িং উড়োজাহাজ রপ্তানি নিয়ে কিছু সমঝোতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসতে পারে তাইওয়ান প্রশ্ন। চীন চাইছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী অবস্থানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমুক। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের অবস্থানে সামান্য পরিবর্তনও এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া প্রযুক্তি রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং ভবিষ্যতে নতুন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার নিশ্চয়তাও চাইছে বেইজিং। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীন বিরল খনিজ রপ্তানির লাইসেন্স ব্যবস্থাও আরও কঠোর করেছে।

ওয়াশিংটনের স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ সেন্টারের বিশ্লেষক স্কট কেনেডির মতে, এই বৈঠকের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ফল হতে পারে দুই দেশের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা কমানো। তবে দীর্ঘমেয়াদে এর কৌশলগত সুবিধা চীনের পক্ষেই বেশি যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

এএন