ইরানকে আবারও সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তারা ইতোমধ্যে ‘শেষ’ হয়ে গেছে। চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে তেহরানকে হয় ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, নয়তো সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হবে।
শুক্রবার তিন দিনের চীন সফরের শেষ দিনে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, ইরানের ব্যাপারে তিনি আর বেশি ধৈর্য ধরবেন না। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। তিনি এ-ও ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাটি নিরাপত্তার চেয়ে ধারণাগত বিষয়ই বেশি।
ট্রাম্প বলেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সফল চুক্তি দেখতে চান। শি জিনপিং নিজে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়ে বলেছেন, ‘আমি যদি কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি, তবে আমি অবশ্যই সাহায্য করতে চাই।’ ট্রাম্প এই বিশ্বাসও প্রকাশ করেন যে, পরাশক্তি চীনও চায় না ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক।
এ ছাড়াও ট্রাম্প উল্লেখ করেন, মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন তাকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ‘চার বা পাঁচ মিনিটের’ মধ্যেই ইরানের কৌশলগত খারগ দ্বীপকে চূড়ান্তভাবে নিষ্ক্রিয় করে দিতে সক্ষম।
এদিকে চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে বিমান এয়ার ফোর্সের ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপকগুলোর একটি বড় অংশ অক্ষুণ্ণ রেখেছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের পিনিয়েটার মতো মারছিলাম। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী যন্ত্রগুলো মূলত সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রয়োজনে আবারও ইরানে ফিরে যায়, তাহলে তাদের কাছে থাকা বাকি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপগুলোও অত্যন্ত দ্রুত ‘ধ্বংস করে দেওয়া হবে’।
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে অন্যান্য দেশের অনুরোধে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমি আসলে এই যুদ্ধবিরতির পক্ষে থাকতাম না, কিন্তু আমরা মূলত পাকিস্তানের প্রতি অনুগ্রহ করে এটা করতে রাজি হয়েছি।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইরানে পুনরায় ফিরে গিয়ে ‘কিছুটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ’ করতে হতে পারে। তবে এই বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কৌশলগত কিছু বলেননি।
তিনি আরও যোগ করেন, আমরা তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে কার্যত নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি। আমাদের হয়তো কিছু পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে হতে পারে, কারণ আমরা এক মাসব্যাপী একটি যুদ্ধবিরতিতে ছিলাম, যাকে বোধহয় আপনারা তাই বলেন।
(সূত্র: ফক্স নিউজ, আলজাজিরা)
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন