ইরানে ফের হামলার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
ইরানে ফের হামলার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরানকে লক্ষ্য করে আবারও বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দাবি করা হয়েছে। 

বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার আগেই এই সম্ভাব্য হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, এই হামলা বাস্তবায়িত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন ইরান নতুন করে এই সামরিক আগ্রাসনের মুখে পড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ সামরিক ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা ইতিমধ্যেই এই সম্ভাব্য হামলার বিস্তারিত রূপরেখা এবং রণকৌশল চূড়ান্ত করে তাঁর টেবিলে জমা দিয়েছেন। 

হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করলেও চূড়ান্ত অভিযানের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো শেষ অনুমোদন দেননি বলে জানা গেছে। তবে উপদেষ্টাদের একটি বড় অংশই এই মুহূর্তে ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়াতে আগ্রহী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবেচনাধীন সামরিক বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে আগের চেয়েও কয়েকগুণ ব্যাপক মাত্রায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো। এর পাশাপাশি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিশেষায়িত কমান্ডো বাহিনী (স্পেশাল ফোর্সেস) দিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে সরাসরি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থল অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও এজেন্ডায় রাখা হয়েছে। 

এই বিশেষ স্থল অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হবে ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আচমকা হানা দেওয়া এবং সেখান থেকে তাদের মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণ জব্দ করা অথবা সরিয়ে নিয়ে দেশটির পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করা।

এর আগে মার্কিন অপর এক শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ‘এনবিসি নিউজ’ পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি যদি কোনো কারণে পুরোপুরি ভেঙে যায়, তবে নতুন করে শুরু হতে যাওয়া এই সম্ভাব্য অভিযানের সাঙ্কেতিক নাম রাখা হতে পারে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’। এই নাম থেকেই স্পষ্ট যে পেন্টাগন এবার ইরানের ওপর একটি চূড়ান্ত আঘাত হানতে চাইছে।

প্রতিরক্ষা ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় তবে তা হবে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী যুদ্ধগুলোর একটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এবারের সম্ভাব্য হামলাটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চেয়েও কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী, ভয়াবহ এবং দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

এই নতুন সামরিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির খবর ফাঁসের পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উদ্বেগ ও যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জেএইচআর