ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা

সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে

যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে বলে ইরানকে নতুন করে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে তেহরানের সামনে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং ইরানকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগেই তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, যুদ্ধ বন্ধে তেহরান যে সর্বশেষ প্রস্তাব দিয়েছে, তার বিপরীতে ওয়াশিংটন কার্যকর কোনো ছাড় দেয়নি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় না হলে আলোচনা পুরোপুরি স্থবির হয়ে যেতে পারে।

এর আগে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার সময়ও ট্রাম্প কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবারও বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেছেন, তেহরানের প্রস্তাব ছিল বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক। ইরানের পক্ষ থেকে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে-সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা।

এ ছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা কয়েকটি শর্ত দিয়েছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি। সেসবের মধ্যে রয়েছে-ইরানকে সীমিত পরিসরে পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর অনুমতি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর।

তবে সম্প্রতি ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে সীমিত রাখার প্রস্তাব তিনি বিবেচনা করতে পারেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আগের তুলনায় তার অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহন হয়। ইরান বলছে, হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়ে গেছে।

এম জি