পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল, সিপিএম বা কংগ্রেসের চেয়ে বাংলাদেশের জামাতিদের ‘চিড়বিড়ানি’ বা অস্বস্তি অনেক বেশি বেড়ে গেছে। আমাকে নিয়ে তাদের এখন ঘুম হারাম হওয়ার মতো অবস্থা।
সোমবার কলকাতার ভবানীপুর ও ক্যামাক স্ট্রিটে আয়োজিত ধন্যবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জয় পাওয়ার পর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, সীমান্ত আরও শক্তভাবে সুরক্ষিত করা হবে এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে বহু অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় দ্রুত কাঁটাতার নির্মাণের জন্য বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও এদিন কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি পার্ক সার্কাস এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আহত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তিনি জানান, ভাঙচুর, হামলা, তোলাবাজি কিংবা সিন্ডিকেট কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, একই দিনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইমাম, মোয়াজ্জেম ও পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা সরকারি ভাতা বাতিল করে সেই অর্থ শিক্ষাবৃত্তিতে ব্যয় করার সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য, ধর্ম নয়, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
বক্তব্যে বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, জনগণ তৃণমূল সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন