গাজাজুড়ে চলমান সংঘাতে আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। একই সময়ে গাজামুখী একটি ফ্লোটিলা থেকে আটক শতাধিক কর্মী তুরস্কে পৌঁছে অভিযোগ করেছেন, আটক অবস্থায় তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও নির্যাতন করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। হামলার লক্ষ্য ছিল বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবু। এতে হতাহত হন কয়েকজন ফিলিস্তিনি। আল-মাওয়াসি বর্তমানে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা হাজারো মানুষের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
রাতভর গাজার আরও কয়েকটি স্থানে পৃথক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, যেসব এলাকাকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, সেখানেও মানুষ এখন চরম অনিরাপত্তায় দিন কাটাচ্ছে।
ইসরাইলের দাবি, হামাসের অবস্থান লক্ষ্য করেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে ধারাবাহিক বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে, গাজামুখী ফ্লোটিলা থেকে আটক হওয়া শতাধিক কর্মী বৃহস্পতিবার তুরস্কে পৌঁছান। তাদের অভিযোগ, আটক অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে নৌযান আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে। যদিও ইসরাইল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘে তার বিশেষ দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ সতর্ক করে বলেছেন, গাজা আরও বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তার মতে, হামাস অস্ত্র ত্যাগ না করলে পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
হামাস এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে, এটি গাজায় অবরোধ ও সামরিক চাপ বাড়ানোর নতুন অজুহাত তৈরির চেষ্টা। এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও গাজায় ত্রাণ প্রবেশ এখনো অত্যন্ত সীমিত।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন