অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে প্রায় পাঁচ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী কর্মীকে বৈধতার আওতায় আনতে নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে স্পেন সরকার। একই সঙ্গে এসব অভিবাসীর জন্য আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘোষিত এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী এ কর্মসূচির সমালোচনা করলেও সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বলছে, ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যার কারণে তরুণ শ্রমশক্তির চাহিদা বাড়ছে এবং সেই প্রয়োজন মেটাতে অভিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অভিবাসন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পিলার ক্যানসেলা জানান, কর্মসূচি শুরুর প্রথম মাসেই দুই লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের অনেককে প্রাথমিক যাচাই শেষে অস্থায়ী কাজের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
তার মতে, এটি অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় একটি বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যা ভবিষ্যতে সরকারি সেবা ও পেনশন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক দশকে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সচল রাখতে স্পেনের অতিরিক্ত প্রায় ২৪ লাখ কর্মীর প্রয়োজন হবে। এ কারণে সরকার এনজিও ও বিশেষায়িত সংস্থাগুলোর সহায়তায় প্রায় ১০ লাখ আবেদন প্রক্রিয়াকরণের প্রস্তুতি নিয়েছে।
কর্মসূচির আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো নির্মাণ, পর্যটন, পরিবহন ও সেবা খাতে বিদ্যমান শ্রম সংকট মোকাবিলা করা। পাশাপাশি বহু অভিবাসীকে অনানুষ্ঠানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের পরিবেশ থেকে বের করে আনতে চায় সরকার।
পিলার ক্যানসেলা বলেন, বহু অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তাদের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
সরকার অস্থায়ী কাজের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পছন্দের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে একটি স্বেচ্ছামূলক জরিপ চালানোর পরিকল্পনাও করছে। এর মাধ্যমে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অভিবাসীদের সমন্বয় সহজ করা হবে।
এ লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে শ্রমবাজারের চাহিদা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অতীতে একই ধরনের কর্মসূচির অভিজ্ঞতা নিয়ে সতর্কবার্তাও এসেছে। এসাডে বিজনেস স্কুলের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের নিয়মিতকরণ কর্মসূচির পর কিছু ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান অন্য খাতে সরে গিয়েছিল। তাই গবেষকরা শ্রম পরিদর্শন জোরদার এবং বৈধ কর্মসংস্থানে রূপান্তর সহজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ক্যানসেলা বলেন, নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শ্রম পরিদর্শন আরও শক্তিশালী করা হবে। তার ভাষায়, বৈধতার আওতায় আসা মানুষের বাস্তব জীবন ও কাজের পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকার আরও পরিষ্কার ধারণা পাবে, যা অনেক অজানা সমস্যাও সামনে আনবে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন