দক্ষিণ ইরানে আবারও সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে এই নতুন হামলা চালানো হয়েছে।
আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ 'আত্মরক্ষামূলক'। মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য ঝুঁকি ও হুমকি দূর করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করে। সেন্টকমের একজন মুখপাত্র জানান, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মার্কিন সেনারা যথেষ্ট ধৈর্য ধরে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ করে যাচ্ছে।
এই হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দু'পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
সপ্তাহান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে, যদিও পরে তিনি আলোচনায় তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবারের মধ্যেই একটি চূড়ান্ত সমঝোতার আশা প্রকাশ করেছিলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই জানান, আলোচনায় বেশ কিছু অগ্রগতি হলেও এখনই কোনো চুক্তি সই হচ্ছে- এমন দাবি করা ঠিক হবে না।
আজকের এই নতুন মার্কিন হামলার বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ফলে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর এই হামলার কী প্রভাব পড়বে, তা এখনো অনিশ্চিত।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ও ব্যাপক বিমান হামলার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এমনকি তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে ফেলে, যার সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে।
সূত্র: বিবিসি
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন