১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০২:১০ পিএম
১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামসহ প্রধান প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

সোমবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, একই সঙ্গে কম বয়সীদের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ওয়েবসাইটগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা বন্ধ করা হবে।

পাশাপাশি অনলাইন গেমের ভেতরে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

লন্ডনের সরকারি সূত্রগুলো এই নতুন ব্রিটিশ পরিকল্পনাটিকে অস্ট্রেলিয়া-প্লাস হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কারণ গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছিল। গতকালের চেয়েও কঠোর এই ব্রিটিশ আইনের ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা আমাদের এই সময়ের অন্যতম বড় একটি বিতর্ক।

একজন বাবা হিসেবে তিনি জানেন, প্রতিটি অভিভাবকই চান তাঁর সন্তান নিরাপদে বড় হোক।

তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার মূলত বর্তমানের এমন একটি অচল ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে চাচ্ছে যা শিশুদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে।

দ্য সানডে টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নতুন নিষেধাজ্ঞাটি টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, রেডিট, টুইচ, এক্স, থ্রেডস, ফেসবুক এবং কিকসহ মোট ১০টি বড় প্ল্যাটফর্মের ওপর কার্যকর হবে।

এর বাইরেও বয়সে কিছুটা বড় কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা কারফিউ জারি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের মতো অতিরিক্ত বিষয়গুলোও এই মহাপরিকল্পনায় রাখা হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের তিন মাসব্যাপী এক গণজরিপে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ অংশ নেন।

সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ অভিভাবকই ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে সরাসরি মত দিয়েছেন।

তবে সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু কর্মী এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে দাবি করেন, এতে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে।

অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে মাত্র ১৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করা কিশোরী মলি রাসেলের বাবা ইয়ান রাসেল এই সরকারি পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি একে অত্যন্ত দুঃখজনক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।

তাঁর মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিশুদের মনে একটি ভুয়া নিরাপত্তা বোধ তৈরি করবে এবং তারা ইন্টারনেটের অন্য কোনো অন্ধকার অংশে চলে যেতে পারে।

অন্যদিকে ব্রিটেনের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দী জানান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ব্যবস্থা ঠিক করার জন্য অনেক সময় দেওয়া হয়েছিল। এখন শিশুদের সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ করা ছাড়া সরকারের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।

এএন