দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, দীর্ঘদিনের অবরোধে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
মানুষ ঠিকমতো কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছে না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাই দেশের প্রধান সড়কগুলো সচল করতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এই ঘোষণার ফলে এখন থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে মাঠে নেমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক থেকে অবরোধ সরানোর কাজ করতে পারবে।
মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে শ্রমিক ইউনিয়ন, কৃষক সংগঠন এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকেরা আন্দোলনে যোগ দিলে তা আরও বড় আকার ধারণ করে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি এখন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগ।
টানা প্রায় ৫০ দিন ধরে সড়ক অবরোধ চলায় বলিভিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের চাপের মুখে ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট পাজ দাবি করেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হলেও বিক্ষোভকারীদের অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশকের বামপন্থী শাসনের অবসান ঘটিয়ে মাত্র সাত মাস আগে বলিভিয়ার ক্ষমতায় আসেন রদ্রিগো পাজ। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি কমে যাওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বলিভিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। এরই মধ্যে জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর সরকারি সিদ্ধান্ত জনগণের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধি এবং ডলার ও জ্বালানির সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন