হরমুজে ড্রোন হামলার পর ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৭:২৯ এএম
হরমুজে ড্রোন হামলার পর ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা

হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জবাব হিসেবেই এ হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার, পাশাপাশি উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট হামলা চালায়।

সেন্টকমের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে তারা ‘শক্ত ও প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার একমুখী (ওয়ান-ওয়ে) হামলাকারী একটি ড্রোন একটি কার্গো জাহাজে আঘাত হানে। এতে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

হামলার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের পদক্ষেপের যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। পরে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সেই অবস্থান বাস্তবে রূপ নেয়।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতির শর্তের পরিপন্থী এবং এটি হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করে ইরান। পরে ১৭ জুন উভয় পক্ষ ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সর্বশেষ ঘটনার পর সেই সমঝোতা কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এএন