লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় গত বুধবার সন্ধ্যায় পরপর ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বহু ভবন ধসে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) আশঙ্কা, নিহতের এই সংখ্যা শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত না করলেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের একটি ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে ৪৯ হাজার ৬০০ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই ভয়াবহ দুর্যোগের প্রভাব ভেনেজুয়েলার প্রায় ৭০ লাখ মানুষের ওপর পড়তে পারে।
দেশের এই চরম সংকটে নিহতের হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। তিনি জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৫৮৯ জন নিহত ও ২ হাজার ৯৮০ জন আহত হয়েছেন। সরকারি হিসাবে, আটটি হাসপাতাল, রেডক্রস ভবন ও ফরাসি দূতাবাসসহ অন্তত ২৫০টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস বা বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১৯৬৭ সালের পর এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প বলা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, সেনাসদস্য এবং সাধারণ মানুষ একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক জায়গায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় সাধারণ মানুষকে খালি হাতেই উদ্ধারকাজ চালাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় রাতে মশাল জ্বালিয়ে চলছে উদ্ধার তৎপরতা। ঘরবাড়ি হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায় বা পার্কে দিন কাটাচ্ছেন। দুর্গত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেনেজুয়েলাকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১৫ কোটি ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেনেজুয়েলার এই মানবিক বিপর্যয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, দ্রুতই সেখানে উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এই সংকটে পাশে দাঁড়ানোয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার জানান, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর কাজ সমন্বয় করছে জাতিসংঘ। উল্লেখ্য, এই ভূমিকম্পের আগে থেকেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির প্রায় ৮০ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন